দুমকির ১৫০ কিলোমিটার কাঁচা সড়কের বেহাল দশা

সেপ্টেম্বর ১৫ ২০২০, ১৭:১৩

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় প্রায় ১৫০ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তার বেহাল দশা। যথাযথ মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সড়কগুলো বৃষ্টি-কাদায় জনচলাচলের অযোগ্য হয়ে পাঁচ ইউনিয়নবাসীর অবর্ণনীয় দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

উপজেলার তিন দিকে বেষ্টিত পায়রা-পাতাবুনিয়া ও লোহালিয়া নদীর তীরবর্তী ওয়াপদা বেড়িবাঁধের ভাঙনে পাঁচ ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা জোয়ারের পানিতে তলিয়ে লেবুখালী, পাংগাশিয়া, মুরাদিয়া, আংগারিয়া ও শ্রীরামপুর ইউনিয়নের শতাধিক গ্রামীণ কাঁচা রাস্তার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। গ্রামীণ অবকাঠামের ক্ষতিগ্রস্ত কাঁচা রাস্তাঘাট একটানা বৃষ্টিতে ভেঙে বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে।

জানা যায়, সাম্প্রতিক মৌসুমি টানা বর্ষণ ও জলোচ্ছ্বাসে পায়রা তীরবর্তী ওয়াপদা বেড়িবাঁধ ভেঙে পাংগাশিয়া ইউনিয়নের অন্তত ৫-৬টি গ্রাম প্লাবিত হয়। লেবুখালী ইউনিয়নের পশ্চিম লেবুখালী, আঠারগাছিয়া, কার্তিকপাশা, পশ্চিম আংগারিয়া, বাহেরচর, মুরাদিয়া ইউনিয়নের সন্তোষদি, চরগরবদি, কালেখা, দক্ষিণ মুরাদিয়া এলাকা বানের পানিতে তলিয়ে গ্রামবাসীরা পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

এ সময় জলাবদ্ধতায় ডুবে যাওয়া রাস্তাঘাট, বিস্তীর্ণ ফসলি জমি দিনের পর দিন তলিয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়। এতে লেবুখালী ইউনিয়নের ফকিরবাড়ি থেকে আঠারগাছিয়া নেছারিয়া মাদ্রাসা হয়ে কার্তিকপাশার কাটাখালীর খাল, শ্রীরামপুর ইউনিয়নের পিরতলা বাজার থেকে দক্ষিণ দিকে বাদশাবাড়ি হয়ে নাজেম মেম্বারের বাড়ি ডানিডা সড়ক, থানাব্রিজ-জামলা ডানিডা সড়কের নয়ামৃধার বাড়ি থেকে ধোপাবাড়ি, গাবতলী বাজার থেকে মোহাম্মদ হাওলাদারবাড়ি হয়ে তালতলির হাট, আঠারগাছিয়া মাদ্রাসা থেকে কালবার্ড বাজার, মুরাদিয়া ইউনিয়নের পঞ্চায়েত বাজার থেকে মজুমদারবাড়ি লঞ্চঘাট, দক্ষিণ মুরাদিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে কালে খা গ্রাম, বোর্ড অফিস বাজার থেকে সন্তোষদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হয়ে ঝিলনা লঞ্চঘাটের পশ্চিম পাড় পর্যন্ত, আংগারিয়া ইউনিয়নের জলিশা বোর্ড স্কুল থেকে রাজাখালী বাসস্ট্যান্ড সড়ক, রূপাসিয়ার সফের মুন্সীরপুল থেকে পশ্চিম ঝাটরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হয়ে মাদ্রাসা ব্রিজ সড়ক, পাংগাশিয়ার হাজিরহাট থেকে নগেন বৈদ্যর বাড়ি, রাজগঞ্জ খেয়াঘাট থেকে ধোপারহাট হয়ে চানশরিফের বাড়ি পর্যন্ত সড়কসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন কানেক্টিং কাঁচা সড়কগুলো পায়রা-লোহালিয়া নদীর জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত ও পরবর্তীতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে।

বর্ষার মৌসুমে টানা বৃষ্টি এবং ভারী বর্ষণে বেশিরভাগ রাস্তার মাটি ক্ষয় হয়ে ও মাঝে মাঝে অনেকাংশ জুড়ে ভেঙে ফসলি জমির সঙ্গে মিশে গেছে। একসময়ে জনচলাচল উপযোগী রাস্তা হলেও এখন আর তাতে রাস্তার চিহ্নই নেই। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে এমনিতেই দেবে পার্শ্ববর্তী জমির সঙ্গে প্রায় সমতল হয়ে গেছে। তার ওপর চলতি মৌসুমের টানা বৃষ্টিতে হাঁটু কাদায় সয়লাব হয়ে রাস্তার চেহারা একেবারেই বদলে গেছে।

সরেজমিন বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে গ্রামীণ অবকাঠামোর এসব কাঁচা রাস্তাঘাটের চরম দুরবস্থার বাস্তব চিত্র দেখা গেছে। অধিকাংশ রাস্তা ভেঙে একাকার হয়ে গেছে।

লেবুখালীর ইউপি সদস্য মো. হাবিবুর রহমান মিয়া এ প্রসঙ্গে বলেন, টিআর কাবিখা প্রকল্পের বরাদ্দে অধিকাংশ গ্রামীণ রাস্তা মেরামতের কাজ হলেও টানা বৃষ্টিতে সব নষ্ট হয়ে গেছে।

মুরাদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জাফর উল্লাহ বলেন, মাটির রাস্তা বর্ষায় ক্ষতি হবে, এটি খুবই স্বাভাবিক বিষয়। তবে এ বছর মাত্রাতিরিক্ত বৃষ্টি আর জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হওয়ায় প্রত্যন্ত এলাকার গ্রামীণ রাস্তাঘাটের অস্বাভাবিক ক্ষতি হয়েছে।

আংগারিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. সুলতান আহম্মেদ হাওলাদার জানান, বিষয়টি উপজেলা পরিষদের উন্নয়ন কমিটির সভায় তোলা হয়েছে। অধিক ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাগুলো শিগগিরই জনচলাচলের দুর্ভোগ বিবেচনায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সংস্কারের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পেলে মেরামতকাজ শুরু করা হবে।

উপজেলা প্রকৌশলী দিপুল কুমার বিশ্বাস বলেন, চলতি অর্থবছরে ২৮টি রাস্তার প্রকল্প প্রস্তাব ঢাকায় পাঠানোর কার্যক্রম চলছে। অনুমোদন পেলে পর্যায়ক্রমে কাজ শুরু করা হবে।

 




আজকের আবহাওয়া

পুরাতন সংবাদ খুঁজুন

September 2020
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930  

আমাদের ফেসবুক পাতা


এক্সক্লুসিভ আরও

1485 Shares
%d bloggers like this: