বরিশালে চলছে মাদ্রাসা এতিমখানার নামে অভিনব প্রতারনা!

সেপ্টেম্বর ১৫ ২০২০, ১৩:৩৩

মো:আরিফ হোসেন:  বরিশাল নগরীসহ জেলার সর্বত্র মসজিদ মাদ্রাসা ও এতিম খানার নামে ধর্মীয় অনুভুতিকে কাজে লাগিধোনের নামে রিতিমত চাঁদাবাজিতে নেমেছে এক শ্রেনীর লেবাস পরিহিত চক্র। মসজিদ, মাদ্রাসা, খানকা, দরবার, মাজার, এতিমখানাসহ নানা অজুহাতে মানুষের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করছে এই চক্রগুলো।

 

প্রতিবেদকের অনুসন্ধানে বেড়িয়ে আসছে নগরীর পলাশপুরে প্রায় ২০ টি ভূয়া এতিমখানা রয়েছে শুধু মাত্র নামে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতারক চক্র একটি টিন সেট ঘর ভাড়া নিয়ে বড় আকারের সাইনবোর্ডে এতিখানা ও লিল্লাহ বোডিং’র নাম ব্যাবহার করে টানিয়ে রাখে ঘরের সামনে। অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে,ওই সব এতিমখানা শুধু মাত্র নামে রয়েছে। তাদের নেই কোন কার্যক্রম। তাদের মূল র্টাগেট হলো এতিমখানার নামে রিসিভ বই ছাপিয়ে টাকা উত্তোলন করা। বাসা-বাড়ি, দোকান, সর্বত্রই রয়েছে এসব চক্রের বিচরণ।

 

এমনকি চক্রগুলো লঞ্চঘাটে প্রবেশ করে বিভিন্ন লঞ্চে অথবা সড়কে যানবাহনের সামনে দাঁড়িয়ে চাঁদা আদায় করছে বলে অভিযোগ রয়েছে একাধিক। প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ জানেন না অথচ সে প্রতিষ্ঠানের নামে রসিদ ছাপিয়ে এতিমদের নামে যানবাহন ,লঞ্চ,অফিস আদালত থেকে শুরু করে কয়েকটি স্পট থেকে টাকা তোলা হয় মাদ্রাসার নামে। এমনই কিছু চিত্র ধরা পরেছে আমাদের প্রতিবেদকের ক্যামেরায়।

 

বরিশাল নগর সহ দক্ষিণাঞ্চল জুড়ে বেপরোয়া চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছেন বরিশাল সদর উপজেলার কর্নকাঠি ইউনিয়েনর চরকরামজি এলাকার চিহ্নিত সেই ভন্ড আল-আমিন হাওলাদার। তিনি নগরীর ২৫ নং ওয়ার্ডের রূপাতলী এলাকার পটুয়াখালী সড়ক সংলগ্ন নতুন আবাসিক এলাকায় অবিস্থত হযরত কায়েদ সাহেব হুজুর (রঃ) আজিজিয়া দারুল হুফ্ফাজ মাদ্রাসার খাদেম পরিচয় দিয়ে কয়েকজনকে সাথে নিয়ে নিরবভাবে চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছে। আল-আমিনের রয়েছে খোঁচা খোঁচা দাড়ি, লম্বা পাঞ্জাবি আর জমকালো টুপি তার চাঁদাবাজির মূলধন।

 

আল-আমিন নিজ এলাকা থেকে বিতাড়িত হয়ে কয়েক বছর পূর্বে বরিশাল এসে শুরু করেন এই অভিনব প্রতারণা। তার প্ররতারনার ব্যাপারে হযরত কায়েদ সাহেব হুজুর (রঃ) আজিজিয়া দারুল হুফ্ফাজ মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা আলী আকবর তিনি আল-আমিনকে মাদ্রাসা থেকে একবার বেড় করে দিয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমানে মাদ্রাসার পরিচালক মাওঃ রুহুল আমিন তিনি ফের ভন্ড আল-আমিনকে দিয়ে নগরজুরে এতিমদের নামে টাকা উত্তোলন করাচ্ছে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হযরত কায়েদ সাহেব হুজুর (রঃ) আজিজিয়া দারুল হুফ্ফাজ মাদ্রাসারটি সমাজ সেবা অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত। প্রতিমাসে সমাজ সেবা অধিদপ্তর থেকে এতিমদের খাওয়া ও থাকার জন্য ১৩ হাজার টাকা করে অনুদান পাচ্ছে। তার পরেও মাদ্রাসার রিসিভ বই দিয়ে নগরজুড়ে এতিদের কথা বলে উত্তোলন করা হয়ে হাজার হাজার টাকা। একটি সূত্র আরো জানিয়েছে,মাওলানা আলী আকবর তিনি এতিমখানাটি ভাড়া দিয়েছে রুহুল আমিন নামে এক ব্যাক্তির কাছে। সেখান থেকে প্রতি মাসে নিচ্ছে মোটা অংকের টাকা।

 

আর একদিকে এতিমদের নামে প্রতিমাসে সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে তুলছে ১৩ টাকা। অন্যদিকে নগরীর ২২ নং ওয়ার্ডের জিয়া সড়ক এলাকায় অবস্থিত মাদিনাতুল উ’লুম আহ্মাদিয়া মাদ্রাসার নামে রিসিভ বই ছাপিয়ে এতিমদের কথা বলে একটি চক্র দিয়ে নগরীর লঞ্চঘাট,মেডিকেলসহ বিভিন্নস্থান থেকে টাকা উত্তোলন করাচ্ছে মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম।

 

টাকা উত্তোলন করার ব্যাপারে মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, করোনার কারনে মাদ্রাসা অনেক দিন ধরে বন্ধ ছিলো। তাই নতুন করে ৬ জন ছাত্র নিয়ে আবারও চালু করেছি। মাদ্রাসার উন্নয়নের কাজ করাতে অনেক দেনা হতে হয়েছে আমাকে। তাই কিছু লোক দিয়ে টাকা কালেকশন করাতে হচ্ছে। তবে অপনারা বললে কালেকশন বন্ধ করে দেব।

 

এবিষয়ে মাদ্রাসা কমিটির সভাপতি হাফেজ মাও:মনিরুল জামান বলেন, আমি মাদ্রাসার নামে কোন ধরনের চাঁদা এবং টাকা কালেকশন করার জন্য অনুমতি দেইনি। এদিকে বরিশাল সদর উপজেলার হরিনা ফুলিয়ার এলাকায় অবস্থিত উত্তর হরিনাফুলিয়া (মাখরকাঠি মিয়া বাড়ি) সুফিয়া মাদরাসার নামে চলছে নগরজুড়ে চলছে অভিনয় প্রতারনা। ছাত্র নেই শিক্ষক নেই তার পরেও বড় আকারে একটি সাইনবোর্ড টানিয়ে চলছে তাদের প্রতারনা। হাজার হাজার রিসিভ বই ছাপিয়ে। সেখানে নেই কতৃপক্ষের কোন ফোন নাম্বার। তবে সাধারন মানুষ প্রতারকের চক্রে পরে কোথায় দান করছে। কেউই তা চিন্তা করছে না।

 

বিষয়টি জানতে মাদ্রাসার শিক্ষক খলিলুর রহমানের মুঠো ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি, বলেন মাদ্রাসা চালাতে হলে কালেকশন করতে হবে। না হলে খাবো কি। আপনি রির্পোট করার আগে মাদ্রাসায় এসে একটু চা খাবেন অনুরোধ করছি। তার পরে আপনার সাথে কথা বলবো রির্পোট না কারার ব্যাপারে। তবে বাস্তবে দেখা গেছে রাস্তায় অনেক অসহায় ভিক্ষুকও থাকেন। কিন্তু মানুষ ভিক্ষুকদের চেয়ে এতিমখানাতেই দান করেন বেশি। কারণ, আল্লাহর ঘরে দান করলে বেহেশ্ত লাভের পথ সুগম হয় বলে জানেন তারা। মাদ্রাসার চাঁদা কালেকশনকারীদের কাছে “সারাদিন পরিশ্রমের বদলে আপনারা কি পান?”- জানতে চাইলে তারা বলেন, “আমরা মাদ্রাসারই লোক।

”এমন দায়সারা গোছের উত্তরে সন্তুষ্ট না হয়ে আরও জানতে চাইলে তিনি পাল্টা প্রশ্ন ছোঁড়েন, “আপনার কি দরকার?” এ প্রতিবেদক ১০ টাকা দান করে মাদরাসা ও এতিমখানার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে এক বৃদ্ধ বলেন, “আমরা এ ব্যাপারে জানি না। ” “আপনারা মাদ্রাসার কি কাজ করেন”- জানতে চাইলে চুপ থাকেন তিনি। প্রতিবেদকের অনুসন্ধানে আরো বেড়িয়ে এসেছে নগরীর পলাশপুর এলাকায় ফ্ল্যাট বাসা ভাড়া নিয়ে বিলাসবহুল জীবনযাপন শুরু করেন জাহাঙ্গীর নামে এক ব্যাক্তি।

শুধু তাই নয় এতিমদের নামে টাকা উত্তোলন করে লাখ টাকার উপরে একটি মটরসাইলে কিনে পকেটে ভূয়া রিসিভ বই ব্যাবহার করে নিরবে চালাচ্ছে চাঁদাবজি। এ ব্যাপারে এক অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, মাহফিলের নামে বিপুল পরিমাণ টাকা উত্তোলন এবং তা আত্মসাতের অভিযোগে এলাকা থেকে গণধোলাই দিয়ে জাহাঙ্গীরকে এলাকাবাসী বের করে দিয়েছে কয়েক বছর আগে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর এর কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রথমে বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরবর্তীতে প্রতিবেদকের সাথে সাক্ষাৎ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। এতিমখানার অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র বলেন, আপনার সংবাদ প্রকাশ করুন। আমরা তদন্ত করে অতি দ্রুত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

 




আজকের আবহাওয়া

পুরাতন সংবাদ খুঁজুন

September 2020
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930  

আমাদের ফেসবুক পাতা


এক্সক্লুসিভ আরও

1201 Shares
%d bloggers like this: