চরফ্যাশনে বেদে নারীদের নীরব চাঁদাবাজি

সেপ্টেম্বর ১১ ২০২০, ১৭:০৭

আমির হোসেন, চরফ্যাশন প্রতিনিধি: চরফ্যাশনের রাস্তাঘাটে, হাটে-বাজারে এমনকি বাসাবাড়িতে বেঁদে মেয়েদের অত্যাচার আর নিরব চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। বেদে মেয়েদের নাকে নথ, পায়ে নুপুরের ঝুমঝুম আওয়াজ, পরনে শাড়ি, হাতে ছোট ছোট বাক্স। দাদা, সাহেব, স্যার, আপু, ভাইয়া এমন সব মিষ্টি কথার ফুলঝুড়ি নিয়ে চরফ্যাশন উপজেলা জুড়ে চলছে বেঁদে মেয়েদের কৌশলী চাঁদাবাজি। ইদানিং হিজড়াদেরকেও হার মানিয়েছে বেঁদে মেয়েছে।

 

বাসা বাড়ির নারীরাও রেহাই পাচ্ছেন না তাদের অত্যাচার থেকে। সরেজমিনে শুক্রবার কয়েকটি স্পট ঘুরে দেখা যায়, চরফ্যাশন হেলিপ্যাড, বটতলা, কেরামতগঞ্জ, বদ্দারহাট, আবুগঞ্জ, দুলারহাট, শশীভূষণ, দক্ষিণ আইচা এ সকল স্থানে অসংখ্য বেঁদে পরিবারের বসবাস। এক গ্রুপ চলে গেলে অন্য গ্রুপ হাজির।

 

প্রশাসনের নাকের ডগায় এমন অত্যাচার ও চাঁদাবাজি চলতে থাকলেও একেবারেই নিরব প্রশাসন। চরফ্যাশন পৌরসভা ৪ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা কলেজ শিক্ষক শহিদুল ইসলাম এই প্রতিবেদককে বলেন, আমি বাসায় না থাকার সুবিধায় এক দল বেদে বিভিন্ন অজুহাত ও আমার শিশু বাচ্চার অসুখের ভয় দেখিয়ে মহিলাদের থেকে ৫হাজার টাকা নিয়ে গেছে।

 

ব্যবসায়ী আবুল কালাম জানান, গত দু‘দিন আগে দু’জন বেদে মেয়ে বয়স ৯ কি ১০ হবে, আমার হাতে-পায়ে ধরে বললো আমার বাবা মারা গেছে কিছু সাহায্য করেন। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে ওদের হাতে একশ টাকা দিলাম। একদিন পর মেয়েদের টোকেন অন্য জায়গায় দেখতে পেয়ে বিভিন্ন কথার ছলে জানলাম ওর বাবা জীবিত।

 

আমিনাবাদ ইউপি সদস্য মোঃ ইউসুফ মেম্বার বলেন, বেদে মহিলা বা শিশুদের অত্যাচার থেকে মুক্তি পেতে এখনই এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া উচিত। সরকার তাদের জন্য সাভারে বেদে পল্লী তৈরি করেছেন। সেখানে লেখাপড়া ও কাজ শেখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতো কিছুর পরও থেমে নেই তাদের এই নিরব চাঁদাবাজি। এখনই তাদের থামানো না গেলে দিন দিন বেড়ে যাবে তাদের অপকর্ম।

 

চরফ্যাশন শশীভূষণ থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা শুনি এবং দেখি কেউ অভিযোগ দেয়না অভিযোগ না দিলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হয়না। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রুহুল আমিন জানান, আমরা এখনো এমন কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

 




আজকের আবহাওয়া

পুরাতন সংবাদ খুঁজুন

September 2020
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930  

আমাদের ফেসবুক পাতা


এক্সক্লুসিভ আরও

1107 Shares
%d bloggers like this: