বরিশাল অঞ্চলে করোনার ছোবল : চেয়ারম্যানসহ দু’জনের মৃত্যু

এপ্রিল ১০ ২০২০, ১৮:১৪

 খান রুবেল: বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাস এবার হানা দিয়েছে বরিশাল অঞ্চলে। এরই মধ্যে এই অঞ্চলে আক্রান্ত হয়ে উপজেলা চেয়ারম্যানসহ দু’জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)।

আজ শুক্রবার করোনাভাইরাস নিয়ে নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিনে বরিশাল অঞ্চলে করোনা আক্রান্ত এক রোগীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। আর উপজেলা চেয়ারম্যানের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বরগুনার সিভিল সার্জন।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করা ব্যক্তিরা হলেন- বরগুনার আমতলী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও আমতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা জিএম দেলোয়ার হোসেন ও অপরজন পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের দুই নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সোবাহান চৌকিদারের ছেলে দুলাল চৌকিদার (৩২)।

এদের মধ্যে বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকাল সোয়া ১১টার দিকে জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে নিজ বাড়িতে মৃত্যুর বরণ করেন উপজেলা চেয়ারম্যান ও একই দিন দুপুর আড়াইটার দিকে নিজ গ্রামের বাড়িতে মৃত্যু হয় দুমকির গার্গেন্স শ্রমিকের।

বরগুনার সিবিল সার্জন ডা. মো. হুমায়ুন শাহিন খান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, গত কয়েকদিন যাবত নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান জিএম দেলোয়ার হোসেন। বুধবার তার নমুনা সংগ্রহ করে আইইডিসিআর এ পাঠানো হয়। শুক্রবার পরীক্ষার রিপোর্টে তার করোনা পজেটিভ ধরা পড়ে।

তিনি বলেন, এখন পর্যন পর্যন্ত বরগুনা জেলার ৫৯ জনের নমুনা সংগ্রহ করে আইইডিসিআর-এ পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ১৬টি রিপোর্ট হাতে এসেছে। যার মধ্যে উপজেলা চেয়ারম্যানেরটাই পজেটিভ। তবে কিভাবে তিনি আক্রান্ত হলে সেটা এখনো জানা জায়নি বলে দাবি করেছেন সিভিল সার্জন।

এদিকে আমতলীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিরা পারভীন বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেলে সীমিত আকারে নামাজে জানাজা শেষে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হয়েছে। তাছাড়া তার বাড়িতে পুরোপুরিভাবে লকডাউন করে দেয়া হয়েছে।

অপরদিকে আইইডিসিআর এর তথ্য অনুযায়ী বৃহস্পতিবার দুমকীতে মৃত্যু হওয়া দুলাল চৌকিদার নারায়ণগঞ্জের একটি পোশাক কারখানার শ্রমিক ছিলেন। নিষেধাজ্ঞা সত্যেও গত ৫ এপ্রিল রোববার জ্বর, সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে বাড়িতে আসেন দুলাল।

খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয় দুলাল চৌকিদারকে। এরপর গত মঙ্গলবার তার নমুনা সংগ্রহ করে তা পরিক্ষার জন্য ঢাকায় আইইডিসিআর-এ পাঠানো হয়। বুধবার তার নমুনা পরীক্ষা করে করোনা পজেটিভ পায় আইইডিসিআর।

এরপর গত বৃহস্পতিবার নিজ বাড়িতে মৃত্যু হয় দুলাল চৌকিদারের। এর পর পরই শ্রীপুর ইউনিয়নের দুই নম্বর ওয়ার্ড পুরোপুরি লকডাউন করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এ কারণে গত দু’দিনে ওই এলাকায় নতুন করে কেউ প্রবেশ কিংবা বাহির হতে পারছে না।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল-ইমরান বলেছেন, ‘লকডাউন এলাকায় মানুষের ঘর থেকে বের হওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। প্রয়োজনে ওইসব পরিবারগুলোতে উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসনের লোকেরা প্রয়োজনীয় খাবার সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত পরিস্থিতি এমনই থাকবে।

সহকারী কমিশনার আরও বলেন, ‘মৃত ব্যক্তিকে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নির্দেশনা মোতাবেক দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। কয়েকজন লোকের উপস্থিতিতে তার দাফন সম্পন্ন হয়। তবে তার মৃত্যুর পর থেকে শুধু দুমকি নয়, পুরো পটুয়াখালী জেলা জুড়ে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। একই অবস্থা বিরাজ করছে বরগুনার আমতলী উপজেলায়।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, এ পর্যন্ত দেশে যাদের করোনা আক্রান্ত সনাক্ত হয়েছে তার মধ্যে প্রথম অবস্থানে রয়েছে রাজধানী ঢাকা। এর পর পরই অবস্থান নারায়ণগঞ্জের। গত ২৪ ঘন্টায় দেশে যে ছয় জনের মৃত্যু হয়েছে তার মধ্যে দু’জন নারায়নগঞ্জের। এমন পরিস্থিতিতে নারায়ণগঞ্জে আটকে থাকা বরিশাল অঞ্চলের মানুষ পালিয়ে বরিশালে আসছেন।

এরই মধ্যে গত বৃহস্পতিবার বরিশালের উজিরপুর পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পরমানন্দ সাহা এলাকায় নারায়নগঞ্জ থেকে ৬ ব্যক্তি এসেছেন। একই উপজেলার বরাকোঠা ইউনিয়নের দুই নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ইকবালের বাড়িতেও নারায়নগঞ্জ থেকে এসেছেন অপর এক ব্যক্তি।

স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে উপজেলার দুটি এলাকায় মোট আটটি বাড়ি লকডাউন করে দিয়ে আসেন উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। তবে লকডাউন করা হলেও আতঙ্ক থেমে নেই এলাকার মানুষের মধ্যে। যদিও তাদের কোভিড পরীক্ষা করানো হবে কিনা সে বিষয়টি এখনো জানা যায়নি।

অপরদিকে সতর্কতার অংশ হিসেবে গত দু’দিন আগেই গোটা বরিশাল জেলা লকডাউন ঘোষণা করে বরিশাল জেলা প্রশাসন। এর ফলে বানিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত যানবাহন ও এ কাজে নিয়োজিত ব্যক্তি ছাড়া কেউ বরিশাল জেলায় প্রবেশ কিংবা বাহির হতে পারবে না।

জেলা প্রশাসনের এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে কাজ করছে পুলিশ, ল্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি অনুযায়ী জেলার প্রতিটি প্রবেশদ্বারে চেক পোস্ট বসানো হয়েছে। স্ব স্ব থানা পুলিশ চেক পোস্ট বসিয়ে তল্লাশী করছে যানবাহন, মানুষের অবাধ চলাচল এবং জেলায় প্রবেশ এবং বাহির হওয়া ঠেকাতে কাজ করছে বলে দাবি তাদের।

আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর এমন কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যেও বাহিরের লোক কিভাবে জেলায় প্রবেশ করছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল। তারা বর্তমানে পরিস্থিতিতে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ফটোসেশনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রকৃতি লকডাউন নির্দেশনা বাস্তবায়ন এবং এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনে আরো কঠোর হওয়ার দাবি তুলেছেন।

 




আজকের আবহাওয়া

পুরাতন সংবাদ খুঁজুন

August 2020
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  

আমাদের ফেসবুক পাতা


এক্সক্লুসিভ আরও

Shares
%d bloggers like this: