বানারীপাড়ায় মসজিদের সভাপতি বলে কথা!

মার্চ ২৬ ২০২০, ১১:৫৭

নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার ৭ নং বানারীপাড়া ইউনিয়নের পশ্চিম গাভা পেশকার বাড়ি জামে মসজিদ নিয়ে বর্তমানে চলছে তুঘলকি কারবার।

র্দীঘ দিন ধরে মসজিদের পাশেরই বাসিন্দা মৃত:চেরাগ আলীর পুত্র খলিলুর রহমান কর্তৃক একছত্র ভাবে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব স্বেচ্ছাচারীতা ভাবে পালন করায় ক্ষোভে ফুঁসে উঠছে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সিংহ ভাগ সদস্য,মুসুল্লি ও এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে যে কোন সময় ঐ এলাকায় ঘটে যেতে পারে অনাকাক্ষিত ঘটনা। স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে সরজমিনে গিয়ে জানা যায়, ১৯৯৪ সালে স্থানীয় বাবুল হাওলাদার, চাঁন্দু খা, খলিলুর রহমানসহ বেশ কয়েক জনের দানকৃত জমিতে উল্লেখিত মসজিদটি প্রতিষ্ঠিত হয়।

প্রতিষ্টার পর থেকেই কমিটির অন্যন্য সদস্যদের পাশ কাটিয়ে নিজের একক সিদ্বান্তে মসজিদ পরিচালনা করতে থাকেন খলিলুর রহমান। মসজিদে প্রাপ্ত দান-ছদগা, ব্যাক্তি এবং সরকারী অনুদানসহ প্রাপ্ত যাবতীয় সাহায্য একাই গ্রহন করতেন খলিলুর রহমান। এক্ষেত্রে অন্যন্য সদস্যরা প্রতিবাদ করলেও তাদের কোন হিসাব না দিয়ে নিজের খেয়াল-খুশি মত মসজিদ পরিচালনা করতে থাকেন খলিলুর রহমান। আর তার দোসর হিসেবে কাজ করেন নিজের মাকে শিকলে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত ইমাম ইসমাইল হোসেন।

এলাকাবাসী জানায়, এই ইমাম ইসমাইল মসজিদের সন্নিকটে অবস্থিত ফোরকানীয়া মাদ্রাসার একটি কক্ষ দখল করে সেখানে বসে ঝাড়-ফুক ও কবিরাজির নামে র্দীঘ দিন ধরে প্রতারনার সাথে জড়িত। এছাড়া তিনি মসজিদে আগত বয়স্ক মুসুল্লিদের সাথে প্রায় সময়ই র্দূব্যাবহার করেন বলে জানিয়েছেন একাধীক মুসুল্লিরা। স্থানীয়রা আরো জানায়,ইমামের ছেলে আব্দুল্লাহ বেশ কয়েক বার মাদক ও পর্নোগ্রাফি মামলায় গ্রেফতার হয়েছিলেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গ্রামবাসী এ প্রতিবেদককে জানান, সভাপতি খলিলুর এক সময় বিএনপির সাংসদ শহিদুল হক জামালের ঘনিষ্ট সহচর ছিলো। পরবর্তীতে সরকার পরিবর্তনের পর তিনি আ’লীগের সাংসদ ফাইজুল হকের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন।

এমনকি ক্ষমতাসীন দলের নেতা পরিচয়ে বিভিন্ন স্থান থেকে মসজিদের জন্য অনুদান সংগ্রহ করে তা আত্মসাতেরও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তিনি আরো জানান, খলিলুর রেডক্রিসেন্টের একজন ড্রাইভার মাত্র।

আর কি করে একজন ড্রাইভার নিজেকে একজন প্রভাবশালী দাবি করেন তা আমরা বুঝতে পারিনা। এদিকে খলিলুর ও ইমাম ইসমাইল নিজের অপকর্ম ঢাকতে মসজিদের সব চেয়ে বৃদ্ধ মুসুল্লি এবং পরিচালনা কমিটির কোষ্যধক্ষ সোবাহান মোল্লাকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করে। সেই অপমানে হ্নদরোগে আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে তিনি শয্যাসায়ী। এব্যাপারে মসজিদের দাতা সদস্য বাবুল হাওলাদার বলেন,আমরা চাই অন্য মসজিদের মত আমাদের এই মসজিদটিও সুন্দর ও সুচারু ভাবে পরিচালিত হোক।

কিন্তু খলিলুর রহমান প্রভাব খাটিয়ে কাউকে কোন হিসাব নিকাশ না দিয়ে মনগড়া ভাবে মসজিদ পরিচালনা করায় আমরা শংকিত। আমরা চাই মসজিদে আগত মুসুল্লিদের সবার মতামতের ভিত্তিতে নতুন পরিচালনা কমিটি গঠিত হোক। যাতে করে সকলেই জবাবদিহিতার আওতায় থাকেন। এব্যাপারে অত্র ইউনিয়ের ৭ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও বিশিষ্ট সমাজ সেবক আমির হোসেন বলেন,আমি এলাকাবাসীকে নিয়ে বেশ কয়েক বার চেয়ারম্যানের নির্দেশ অনুযায়ী বিষয়টি সমাধানকল্পে বৈঠক ডেকে ছিলাম।

কিন্তু তারা আমার কথায় কর্নপাত করেনি। অপর দিকে কয়েক দিন পূর্বে এলাকাবাসীকে হেনস্তা করার উদ্দেশ্যে ইমাম ইসমাইল হোসেন লাঞ্চিত হয়েছেন মর্মে একটি অভিযোগ তুলেন এবং খলিলুর এর ঘনিষ্ট কয়েক জন মহিলাকে দিয়ে একটি বিক্ষোভের ফটোসেশন করে এলাকায় অস্থির পরিবেশ সৃষ্টি করেন। সাধারন গ্রামবাসীর দাবি, অবিলম্বে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে মসজিদের নতুন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হোক এবং মসজিদ সংলগ্ন মাদ্রাসার জমি দখল চেস্টা কারিদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হোক।

অভিযোগ প্রসংঙ্গে ওই এলাকার ইউপি চেয়ারম্যান আ.জলিল ঘরামী বলেন, বিষয়টি শুনে আমিও হতবাক হয়েছি। কি করে কমিটি ছাড়া মসজিদ পরিচালনা হয় তা আমার বোধগম্য নয়। আমি কমিটির সদস্যদের নিয়ে খুব শিঘ্রই বৈঠক ডেকে নতুন মসজিদ পরিচালনা কমিটি গঠন করবো। সূত্র: দৈনিক ভোরের অঙ্গীকার




আজকের আবহাওয়া

পুরাতন সংবাদ খুঁজুন

April 2020
M T W T F S S
« Mar    
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930  

আমাদের ফেসবুক পাতা


এক্সক্লুসিভ আরও

%d bloggers like this: