ব্রেকিং নিউজঃ

করোনা পরিবাহী নয় সংবাদপত্র, তবে সতর্কতা আবশ্যক

মার্চ ২৪ ২০২০, ২২:০৮

Spread the love

ডেস্ক প্রতিবেদক: বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস মহামারিতে বিপর্যস্ত জনজীবন। প্রতিদিনই বাড়ছে প্রাণহানি ও নতুন আক্রান্তের সংখ্যা। চলমান এই পরিস্থিতির মাঝে সবকিছুতেই এখন করোনা সংক্রমণের আতঙ্ক বিরাজ করছে মানুষের মনে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রশ্ন ওঠেছে বাসা-বাড়ি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সরবরাহকৃত কাগুজে সংবাদপত্রের মাধ্যমে করোনা সংক্রমণের সম্ভাবনা রয়েছে কতটা?

মূলত করোনাভাইরাস সম্পৃক্ত নানা তথ্যের স্তূপ জমতে শুরু করেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে। তবে এসকল তথ্যের মাঝে অনেক তথ্য অপপ্রচারমূলক ও বিভ্রান্তিকর। এমনই একটি প্রচারের মাধ্যমে প্রথম আলোচনায় আসে সংবাদপত্রের মাধ্যমে করোনাভাইরাস সংক্রমণ সৃষ্টির সম্ভবাবনার কথা। এরইমধ্যে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে প্রতিবেশি দেশ ভারতের গণমাধ্যমে। জনগণের কাছে জরুরি বার্তাবাহী সংবাদপত্রের বিতরণ নিশ্চিত করার আগে তাই এতে কোনো স্বাস্থ্য ঝুঁকি রয়েছে কিনা সে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে কাজ শুরু করে দেশটি।

ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য মতে জানা গেছে সংবাদপত্র বা এতে ব্যবহৃত কাগজে করোনাভাইরাসের আগাম মজুদ থাকার কথা কোথাও জানা যায়নি। অর্থাৎ এটি নিজ থেকে ভাইরাস পরিবাহী নয়। তাছাড়া প্রেসে সংবাদপত্র ছাপানোর কাজ যেভাবে চলে তাতে করে খুব কমই থাকে হাতের স্পর্শ। বাধানো এনরোল প্যাকড কাগজ স্বয়ংক্রিয় মেশিনের মাধ্যমে টেনে ভেতরে নিয়ে তাতে ছাপানো হয় কম্পিউটারাইজড প্রক্রিয়ায় সন্নিবিশিত সংবাদপত্রের পাতাসমূহ। এরপর সম্পূর্ণ কাগুজে পত্রিকাটি মেশিনের সাহায্যে ভাঁজ হয়ে নির্ধারিত বান্ডেলের পরিমান অনুস্বারে স্তরে স্তরে জমা হয়।

পত্রিকা ছাপানোর এই বৃহৎ অংশটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালিত হয় বলে এমনিতেই বজায় থাকে অস্পৃশ্যতার নিশ্চয়তা। আর যেটুকু কাজ হাতের স্পর্শে করা হয় অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রেসকর্মীদের ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য নিরাপতার স্বার্থে আগে থেকেই সেখানে ব্যবহৃত হয় গ্লাভস। আর বর্তমান পরিস্থিতে এক্ষেত্রে সচেতনতার মাত্র বৃদ্ধি করবে গণমাধ্যম অফিসগুলো সেটাই স্বাভাবিক। এরপর পত্রিকা পরিবহনের ক্ষেত্রে প্রেস থেকে সরাসরি নির্ধারিত পরিবহনে ওঠানোর পর যেহেতু মাঝ পথে কোথায় নাড়াচাড়া করা হয় না এবং প্রতিটি বান্ডেল আলাদা একটি মোটা কাগজে প্যাক থাকে তাই এক্ষেত্রেও নিরাপত্তা বজায় থাকছে।

সার্বিক দিক বিবেচনা করে তাই দেখা গেছা, মূলত একটি সতর্ক ও নিরাপদ প্রক্রিয়ার মধ্যদিয়েই কাগুজে অত্রিকা ছাপানোর কাজটি করা হয়ে থাকে। সেই সঙ্গে পরিস্থিতি বিবেচনায় ক্যারিয়ার ও হকারদের বাড়োতে সচেতনতা নিশ্চিত করা হলে বাকি আশঙ্কাটুকুও থাকছে না।

এমন সব বিষয় নিশ্চিত হয়েই ভারতসহ বিভিন্ন রাষ্ট্র লকডাউনের মাঝে সংবাদপত্র বিতরণের কাজ সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে সচল রাখার ব্যাপারে সরকারিভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের কথা নিশ্চিত করেছে। তবে বর্তমান অবস্থায় যেহেতু ঝুঁকিমুক্ত নয় কোনো কিছুই তাই এই প্রক্রিয়ায় কঠোরভাবে সর্বোচ্চ সচেতনতা ও সতর্কতা অবলম্বনে জোরালোভাবে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। বিশিষ্ট জনরা বলছেন সভ্য সমাজের সর্বোচ্চ বিবেকবান ও মেধাবীরাই গণমাধ্যমে কাজ করেন। মানুষের ক্ষেত্রে যারা সারা বিশ্বকে সচেতন করে যাচ্ছেন নিরন্তর, নিজেদের ক্ষেত্রে তারা সেটি আরো ভালভাবে অনুসরন করবেন এটাই স্বাভাবিক।

তথ্যসূত্র সহায়ক: দ্য হিন্দুস্তান, দ্য ইন্ডিয়ান টাইমস

 




আজকের আবহাওয়া

পুরাতন সংবাদ খুঁজুন

June 2020
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930  

আমাদের ফেসবুক পাতা


এক্সক্লুসিভ আরও

%d bloggers like this: