বরিশালে বিআরটিএতে নতুন লাইন্সেস করার হিড়িক

নভেম্বর ০৮ ২০১৯, ১৬:০২

নিজস্ব প্রতিবেদক: বহুল আলোচিত নতুন সড়ক পরিবহন আইন-(২০১৮) বাস্তবায়নে কঠোর শাস্তির বিধান ঘোষণার পরপরই বরিশালে নতুন লাইন্সেস করার হিড়িক পড়েছে। একই সঙ্গে চালক ও যানবাহন মালিকদের বরিশাল বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)  দফতরে উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। প্রতিদিন সকাল নয়টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ভিড় করছে কয়েক হাজার নতুন লাইসেন্স,গাড়ির নতুন নিবন্ধন ও নিবন্ধন নবায়ন  প্রত্যাশীরা। যার সংখ্যা দিনে দিনে বেড়ে পূর্বের চেয়ে প্রায় ৫/৬ গুনে পৌঁছায়েছে। হঠাৎ করে নতুন লাইসেন্স করা মালিক ও চালকদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় রীতিমত হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে।

বৃহস্পতিবার ( ৭ নভেম্বব ) দুপুরে বরিশাল বিআরটিএ’র দফতরে গিয়ে দেখা যায়,আবেদনকারীর লম্বা লাইন। সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আবেদন জমা দিচ্ছেন বিভিন্ন যানবাহনের চালকরা। একই চিত্র দেখা গেছে ,লাইসেন্স, গাড়ির নিবন্ধন ও নিবন্ধন নবায়ন ফি জমা নেয়া ব্যাংক আর বুথ গুলোতে।

বরিশাল বিআরটিএ’র সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার (১ নভেম্বর) থেকে সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তবে নতুন এই আইন সঠিক ভাবে জানা ও  বাস্তবায়নের জন্য এক সপ্তাহ জরিমানা না করার জন্য নির্দেশ দিয়ে কর্তৃপক্ষ। এই আইন ঘোষণা পর রোববার (৩ নভেম্বর) বিআরটি’র অফিস খোলার পর থেকেই শুরু হয় মালিক ও চালকদের উপচে পড়া ভিড়। রোববার থেকে শুরু করে বুধবার (৬ নভেম্বর ) বিকেল সাড়ে ৪ টা পর্যন্ত চার দিনে শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন পত্র গ্রহণ করেছেন ১৭১ টি। যা গত সপ্তাহের ( ২৭-৩১ অক্টোবর) ৫ কমর্ দিবেসে ২১১ টি আবেদন গ্রহণ হয়েছে বলে জানান, বিআরটিএ’র মটরযান পরির্দশক মোঃ মাহফুজ হোসেন।  তিনি আরো বলেন,অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে সঠিকভাবে কাগজপত্র বুঝে রাখা সম্ভব হচ্ছে না।  অধিকাংশ গাড়ির মালিক ও চালকরা ফরম নিয়ে যাচ্ছে,আবার আসছেন লাইন্সেস করার বিস্তারিত প্রক্রিয়া জানতে। সব মিলিয়ে তাদের কে সব্বোর্চ সেবা হচ্ছে।

বিআরটিএ’র দফতরে ডিউটিরত আনসার সদস্য অহিদুল  বলেন, নতুন আইনের শাস্তির বিধান শুনে রোববার থেকে বৃহস্পতিবার হাজার হাজার মানুষ ভিড় করছে। যা গত সপ্তারের চেয়ে ৫/৬ গুণ বেশি।

নতুন ড্রাইভিং লাইন্সেস ফি জমা দিতে আসা মোঃকামাল  বলেন, সড়ক পরিবহন নতুন আইনের জরিমানার চাপে পরে এসেছি, শুনেছি অনেক জরিমানা দিতে হয় ।

বরিশাল বিআরটিএ’র উপ-পরিচালক ( ইঞ্জি) মোঃ জিয়াউর রহমান  জানান , নতুন সড়ক পরিবহন আইন (২০১৮) ঘোষণা পরপরই গাড়ীর মালিক ও চালকরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বিআরটিএ কার্যালয়ে এসে নতুন লাইন্সেস করার জন্য ভিড় করছে। যার সংখ্যা দিনে দিনে বাড়ছে। তিনি আরো বলেন, নতুন সড়ক পরিবহন আইন-(২০১৮) বাস্তবায়নের লক্ষে বরিশাল নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন স্থানে জনসাধারণ, গাড়ির চালক ও কন্ডাক্টরদের সচেতনতায় পথসভা ও লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসি ট্রাফিক মোঃ খাইরুল আলম জানান গাড়ী ,গাড়ীর মালিক ও চালকদের জরিমানা করা পুলিশের মূখ্য বিষয় নয়। কারণ পুলিশ সবসময়ই চায় গাড়ী চলাচলের জন্য সঠিক কাগজপত্র ও চালকের লাইন্সেসের ব্যবহার নিশ্চিত করতে। তিনি আরো বলেন সড়ক পরিবহনের নতুন আইন বাস্তবায়ন করার জন্য নানা সচেতনা মূলক কার্যক্রম গ্রহণ করেছে ট্রাফিক পুলিশ।
যার মধ্যে বিশেষ করে চালক ও হেলপারদের নির্ধারিত বাস স্টপেজে বাস থামানো, চলন্ত অবস্থায় বাসের দরজা বন্ধ রাখা, ঘুমঘুম চোখে গাড়ী না চালানো, ড্রাইভিং লাইসেন্স ব্যতীত গাড়ী না চালানো, গাড়ী চালনার আগে গাড়ীর অন্যান্য কাগজপত্র সঠিক আছে কিনা তা দেখে নেয়া, মহাসড়কে দ্রæত গতিতে গাড়ী না চালানোর না পরামর্শ দেয়া হচ্ছে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

এদিকে ,নতুন এ আইনে সব ধরনের সাজা বাড়ানো হয়েছে। নতুন আইনে ট্রাফিক সংকেত ভঙ্গের জরিমানা ৫০০ থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ১০ হাজার, হেলমেট না পরলে জরিমানা ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা করা হয়েছে। সিট বেল্ট না বাঁধলে, মোবাইল ফোনে কথা বললে চালকের সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে।




আজকের আবহাওয়া

পুরাতন সংবাদ খুঁজুন

নভেম্বর ২০১৯
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« অক্টোবর    
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০  

আমাদের ফেসবুক পাতা


এক্সক্লুসিভ আরও

%d bloggers like this: