ব্রেকিং নিউজ

কোন নিয়ম নেই বরিশালের আবাসিক হোটেল গুলোতে

মার্চ ২৩ ২০১৯, ২০:৫৪

খাঁজা পিকু: অপরাধ নিরসনে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের বেঁধে দেওয়া নিয়মাবলী মানছে না আবাসিক হোটেলগুলো। আর নিজেদের ইচ্ছেমত করে হোটেল পরিচালনা করায় কমছে না অপরাধ। বরিশাল নগরী ঘুরে দেখা গেছে, আগে আবাসিক হোটেলগুলোতে পুলিশের নজরদারী থাকলেও দিনে দিনে নজরদারীতে ভাটা পড়ায় যাচ্ছেতাই রকমের চলছে এসব হোটেল।

নগরীতে ভিআইপি হোটেলের মধ্যে রয়েছে গ্রান্ডপার্ক, সেডোনা ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট লি., এরিনা ও হোটেল এ্যাথেনা। এছাড়াও সেমি ভিআইপি হচ্ছে হোটেল সামস, হক ইন্টারন্যাশনাল, হোটেল আলী, হোটেল ওয়ান ও রোদেলা। আর নিম্ন-মধ্যমানের ও নিম্নমানের প্রায় একশ’ হোটেল নগরীতে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। পুলিশি নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে, হোটেল কর্তৃপক্ষ প্রত্যেক বোর্ডারকে কক্ষ ভাড়া দেয়ার পূর্বে বোর্ডারের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, স্থিরচিত্র, পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা, হাতের ছাপ, ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করবেন। ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা স্থাপনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

কিন্ত সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, শুধুমাত্র সিসি ক্যামেরা থাকলেও আর কোনো নির্দেশনাবলী মানছেনা হোটেল কর্তৃপক্ষ। আবার মধ্যম ও নিম্ন-মানের হোটেলগুলোতে সিসি ক্যামেরা থাকলেও তা সক্রিয় নেই। কথা হয় কিছু মধ্য মানের হোটেল ম্যানেজারের সাথে। তিনি দাবি করেন, সিসি ক্যামেরা থাকায় জাতীয় পরিচয়পত্র, স্থিরচিত্র রাখার ক্ষেত্রে তেমন একটা গুরুত্ব দেওয়া হয় না। তারপরও আমরা রাখছি। তবে ২/১ টি প্রমাণ দেখতে চাইলে তারা দেখাতে পারেননি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অপর এক কর্মচারী জানান রেজিস্টার বহিতে শুধুমাত্র নাম ঠিকানা রেখেই দায়-দায়িত্ব শেষ করা হয়। নগরীর হোটেল নুপুরের এক কর্মচারী জানান, সিসি ক্যামেরাগুলো নষ্ট। জাতীয় পরিচয়পত্র, ও স্থিরচিত্র রাখা হয়না। কারণ এখানে যেসব বোর্ডার আসে তাদের অধিকাংশই পূর্ব পরিচিত। এছাড়াও অনেক হোটেলে গিয়ে জানতে চাইলে তারা কোন তথ্য দিতে ম্যানেজারকে নিষেধ করেন। হোটেল চীল‘র ম্যানেজার বলেন, সিসি ক্যামেরা থাকলেই যথেষ্ট।

এর বেশি কিছু রাখা হয়না। বিউটি রোর্ডের অনেক হোটেলের ভাষ্য, বর্তমানে তেমন বোর্ডার নেই। তাই আনুসাঙ্গিক বিষয়ের প্রয়োজন পড়ে না। অনুসন্ধানে দেখা গেছে , ক্যামেরা ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষিত নেই। হোটেল পপুলারে উঠতেই দেখা গেলো ২ যুবতী ও এক যুবক কক্ষের মধ্যে সময় কাটিয়ে নীচের দিকে চলে যায়। বিষয়টি নিয়ে কথা হলে হোটেল কর্মচারী বলেন, মাঝে মধ্যে কিশোরীরা আসে। আবার চলে যায়। তবে এখন পর্যন্ত এ হোটেলে কোনোরকম হত্যাকান্ড, ধর্ষণ বা অন্য কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি।

কিন্তু হোটেল ঘুরে দেখা গেছে অধিকাংশ সিসি ক্যামেরাই অচল। হোটেল মালিক সমিতির সভাপতি মজিবর রহমান বলেন, ‘আমি সভাপতি হলেও এসব সাংগঠনিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত নই। তাছাড়া মানুষ এখনও সচেতন হয়নি। যার কারণে জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকলেও অনেকের ক্ষেত্রে পেশাগত পরিচয় রাখতে হয়।

আবার ক্যামেরায় ফুটেজ সংরক্ষিত থাকে।’ বরিশাল কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম বলেন, ‘জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও স্থিরচিত্র রাখা বাধ্যতামূলক ’ ‘হোটেল কর্তৃপক্ষ বোর্ডারের তালিকা নিয়মিত থানায় এসে জমা দিয়ে যায়।’ তবে বিএমপির মুখপাত্র নাসির উদ্দিন মল্লিক বলেন, ‘পুরো বিষয়টি তদারকি করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে থানার ওসিকে।

নিয়মমাফিক পুলিশ গিয়ে হোটেলের রেজিস্টার খাতা তদারকি করে আসবে।’ স্থানীয় সূত্রে আরো জোনা গেছে, ফলপট্টি, সদর, পোর্ট রোড এলাকায় অবস্থিত হোটেল মালিকরা নির্দেশনাটি কি জানে না তারা। বর্তমান প্রশাসন নিরব ভুমিকা পালন করছে। যে কোন লোক ভুয়া আই.ডি কার্ড দিয়ে আবাসিক হোটেলে রাত যাপন করছে যাচ্ছেন দিনের পর দিন।

শুধু তাই নয় অসামাজিক কার্যক্রমও দিন দিন বেড়ে চলছে। বিউটি রোড, গিজ্জামহল্লা,র্পোট রোড ও রয়েল রেষ্টোরার পাশ্বে একটি আবাসিক হোটেলের তৃতীয় তলাসহ নগরীর আনাচে কানোচে ছোট ছোট আবাসিক হোটেল গুলোতে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত যুবক-যুবতীদের চলছে অসামাজিক কার্যকলাপ।

মানছেনা তারা সরকারী ৮ নির্দেশনা । এবং কি বোর্ডারের পুর্ণাঙ্গ নাম, ঠিকানা এবং ফোন বা মোবাইল নম্বরে তৎক্ষনকি কল করে সঠিকতা যাচাইও করছেনা।

 




আজকের আবহাওয়া

পুরাতন সংবাদ খুঁজুন

October 2021
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031

আমাদের ফেসবুক পাতা


এক্সক্লুসিভ আরও

Shares
%d bloggers like this: