ব্রেকিং নিউজ

কুয়াকাটায় এক চিকিৎসক দিয়েই চলছে হাসপাতাল

নভেম্বর ২৩ ২০২১, ২০:৫৩

কে এম খাইরুল ইসলাম (সংগ্রাম),কুয়াকাটা ॥ কুয়াকাটার ২০ শয্যার হাসপাতালের চিকিৎসা সেবার বেহাল দশা। মাত্র একজন চিকিৎসক দিয়ে এই হাসপাতালটি চলছে। প্রতিদিনই রোগীরা চিকিৎসা সেবা না পেয়ে ফিরে যায়। নেই পর্যাপ্ত ওষুধ। ময়লা-আবর্জনায় একাকার থাকছে ইনডোর-আউটডোর। ফলে কুয়াকাটার স্থানীয় মানুষসহ আগত পর্যটকরা সেবা নিতে পারছে না। ২০১২ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি চালু হওয়া এ হাসপাতালটিতে এখন জনবল সঙ্কটে সব কিছু মুখ থুবড়ে পড়েছে।

সাগর পারের হতদরিদ্র জেলে ও নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসা সেবা নেয়ার একমাত্র অবলম্বন এ হাসপাতাল। কিন্তু উদ্বোধন হওয়ার পর থেকেই জনবল সঙ্কটে পড়ে আছে। ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসা সেবা।

এ হাসপাতালে বর্তমানে জুনিয়র কনসালটেন্ট সার্জারী, মেডিসিন,গাইনি এন্ড অবস, এ্যানসথেসিয়াসহ চারজন, আবাসিক মেডিকেল অফিসার একজন, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) একজন, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ফার্মাসিস্ট) একজন, প্রধান সহকারি কাম-হিসাব রক্ষক একজন, অফিস সহকারি কাম-কম্পিউটার অপারেটর একজন, ওয়ার্ড বয় একজন, এমএলএসএস একজন, ঝাড়ুদার একজন, কুক একজনের পদ শুন্য রয়েছে। ফলে গ্রামাঞ্চলের লোকজন চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রোগীরা জরুরি প্রয়োজনে হাসপাতালের ইনডোর ও আউটডোর চিকিৎসা সেবা না পেয়ে তাদের ২২ কিলোমিটার দুরে কলাপাড়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যাচ্ছেন। জরুরি প্রয়োজনে প্রয়োজনীয় ওষুধ পাওয়া যায় না। এতে সবচেয়ে বিপাকে রয়েছেন গর্ভবতী মায়েরা। গর্ভবতী মায়েদের দুর্ভোগের শেষ নেই। তাঁরা তাদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে কথা বলতে পারছেন না। জানতে পারছেন না তাদের করনীয়। আগত রোগীদের অধিকাংশ পরীক্ষা-নিরীক্ষা বাইরে থেকে করাতে হয়। খাজুরা গ্রামের কুলসুম বেগম বলেন, কুয়াকাটা হাসপাতালে ভাল ডাক্তার না থাকায় ভাল কোন চিকিৎসা পাওয়া যাচ্ছেনা।

কুয়াকাটা হাসপাতালে কর্মরত একমাত্র চিকিৎসক মোঃ মাহমুদ হাসান ওপু জানান, তার একার পক্ষে গড়ে প্রতি দিন ৫০-৬০জন রোগীর চিকিৎসা সেবা দেয়া অসম্ভব। মার্চ মাস থেকে তিনি সেখানে চিকিৎসা সেবা দিয়ে আছেন। এখানে এমবিবিএস চিকিৎসকের ৬টি পদের মধ্যে ৫টি পদ শুন্য রয়েছে। ডাক্তারসহ জনবল না থাকায় স্বাস্থ্যসেবা নিতে এসে রোগীরা বিপাকে পড়েছেন। এদিকে কুয়াকাটায় ঘুরতে আসা পর্যটকরা চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে দাবি করেন স্থানীয়রা। কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা চিন্মময় হাওলাদার বলেন, আমি প্রতি মাসে চিকিৎসক সংকটের বিষয়টি উল্লেখ করে ঊর্ধতন কর্মকর্তার কাছে বলে আসছি, কিন্তু কোনো ফল পাওয়া যাচ্ছে না।

 

 




আজকের আবহাওয়া

পুরাতন সংবাদ খুঁজুন

November 2021
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930  

আমাদের ফেসবুক পাতা


এক্সক্লুসিভ আরও

1066 Shares
%d bloggers like this: