ব্রেকিং নিউজ

বরগুনায় খেজুর গাছে গাছিদের ব্যস্ততা শুরু

নভেম্বর ২৩ ২০২১, ১৯:১৯

আমতলী প্রতিনিধি ॥ বরগুনার আমতলী ও তালতলী উপজেলার বিভিন্ন স্থানে জমির আইল, রাস্তার পাশ এবং পুকুর পাড়ে সারি সারি খেজুর গাছের ডাল কেটে পরিষ্কার করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন গাছিরা। হাতে দা, কোমরে রশি বেঁধে নিপুণ হাতে খেজুর গাছগুলোকে প্রস্তুত করছেন তারা। এরই মধ্যে অনেকে রস সংগ্রহের জন্য গাছে নলি গাঁথা শুরু করেছেন। সারাদেশে শীত তার আগামনের বার্তা দিচ্ছে।

দিনে তেমন ঠাণ্ডা অনুভব না হলেও গভীর রাত ও সকালে সূর্য ওঠার পূর্ব পর্যন্ত শীতের আমেজ বোঝা যাচ্ছে। আর শীতকাল মানেই পিঠাপুলির উৎসব। বাংলার ঘরে ঘরে এই সময় তৈরি হয় নানা রকম পিঠা। সেই পিঠা তৈরির অন্যতম উপাদান হচ্ছে খেজুর রসের (হালকা জ্বালানো রস) গুড়।

এছাড়া খেজুর গুড়ের তৈরি পায়েস, জিলাপী ও মুড়ির মোয়া খাদ্যপ্রেমীদের কাছে মুখরোচক তো বটেই। এতসব আয়োজনের কথা মাথায় রেখেই খেজুরের রস সংগ্রহে গাছ তৈরিতে শীতের শুরুতে দম ফেলার সময় থাকে না গাছিরাদের। আমতলী ও তালতলীর বিভিন্ন স্থানেই এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। চলছে গাছ তৈরি ও নলি বসানোর কাজ। উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, দুই উপজেলায় ৩০০ হেক্টর জমিতে প্রায় ৪০ হাজার খেজুর গাছ রয়েছে।

চলতি মৌসুমে এসকল গাছ থেকে প্রতিদিন অনুমান ৬০ থেকে ৭০ হাজার লিটার রস পাওয়া যাবে। যা দিয়ে প্রতিদিন এক হাজার লিটারের অধিক গুড় উৎপাদন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দুই উপজেলার একাধিক গাছিরা জানান, সাধারণত খেজুর গাছ পূর্ব ও পশ্চিম দিকে কাটা হয়, যাতে সূর্যের আলো সরাসরি ওই কাটা অংশে পড়ে।

আর সপ্তাহ দুয়েক পরই রস পাওয়া শুরু হবে। খেজুরগাছ থেকে রস পাওয়ার জন্য গাছের ডাল কেটে পরিষ্কার করতে হয়। এক সপ্তাহ পরই হালকা কেটে বাঁশের তৈরি নলি লাগানো হয়। পরে সেখান থেকে রস সংগ্রহ করে থাকেন গাছিরা। আর একটি খেজুরগাছ থেকে প্রতিদিন ২ থেকে ৩ কেজির মতো রস পাওয়া যায়। আর ৬ কেজি রস থেকে ১ কেজি গুড় পাওয়া যায় বলে জানান গাছিরা। তারা আরো জানান, গত বছর ৮০ টাকা কেজি দরে গুড় বিক্রি করেছিলেন।

হয়তো এ বছর ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে গুড় বিক্রি করতে পারবেন। তালতলী উপজেলার পঁচাকোড়ালিয়া গ্রামের গাছি নাসির পাটোয়ারী জানান, আমি এ মৌসুমে ২৫টি গাছ থেকে রস সংগ্রহ করবো। তিনি আরো জানান, প্রথমে খেজুর গাছের মাথার অংশকে ভালো করে কেটে পরিষ্কার করা হয়। এরপর পরিষ্কার সাদা অংশ কেটে অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে কোমরে রশি বেঁধে গাছে ঝুলে রস সংগ্রহ করতে হয়। আমতলী উপজেলার চাওড়া ইউনিয়নের চন্দ্রা গ্রামের কৃষক মো. শানু হাওলাদার বলেন, এ বছর শীতের মৌসুমের শুরুতেই গাছ কাটার প্রস্তুতি প্রায় শেষ করেছি।

আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে গাছ থেকে রস সংগ্রহ করতে পারবো। তিনি আরো বলেন, রসে খুব একটা লাভ হয় তেমন না। এটা সিজনালি একটা আয়ের পথ। তাই রস সংগ্রহ করি। বাকি সময় জমিতে কৃষি কাজ করি। অপরদিকে গাছিরাদের আরেকটি সূত্রে থেকে জানা যায়, আগের মতো খেজুরগাছ পাওয়া যায় না। অনেক মালিক খেজুর গাছ কেটে ফেলেছেন। তবে সেই পরিমাণ নতুন করে গাছ লাগানো হয়নি। শীতের সময় রস পাওয়া ছাড়া গাছগুলো থেকে তেমন কিছুই হয় না।

এ কারণে অনেকেই খেজুর গাছ রাখেন না। আবার অনেকে গাছ কেটে ইটভাটা ও ঘর নির্মাণে ব্যবহার করেন। তাই দিন দিন খেজুর গাছ কমে রসের উৎপাদনও কমে যাচ্ছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সিএম রেজাউল করিম মুঠোফোনে বলেন, শীত এলেই গাছিরা গাছ কাটার প্রস্তুতি নেন। গাছের উপরিভাগের নরম অংশ কেটে রস সংগ্রহ করেন। দিন দিন খেজুর গাছের সংখ্যা কমে যাওয়ার কথা স্বীকার করে তিনি আরো বলেন, একেকটি গাছ থেকে প্রতিদিন ২ থেকে ৩ কেজির মতো রস পাওয়া যায়।

 




আজকের আবহাওয়া

পুরাতন সংবাদ খুঁজুন

November 2021
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930  

আমাদের ফেসবুক পাতা


এক্সক্লুসিভ আরও

2000 Shares
%d bloggers like this: