ব্রেকিং নিউজ

বরিশালে দুম্বা ও ছাগলের পালনে সফল উদ্যোক্তা বাদল

নভেম্বর ২৩ ২০২১, ০০:৩৮

আরিফ হোসেন ॥ ছোট বেলা থেকেই শখ দুম্বা ও ছাগলের খামার করা। শখ থেকেই বাস্তবে রূপান্তরিত হয়েছে বাদলের স্বপ্ন। যদিও অর্থনিতীর চাকা সচল না থাকায় স্বপ্ন বাস্তবে রূপান্তিত হতে অনেকটা বেগ পোহাতে হয়েছে তাকে। বলছিলাম বরিশাল নগরীর জিয়া সড়ক এলাকার বাসিন্দা সফল উদ্যোক্তা রেজাউল করিম বাদলের কথা। আজ তার খামারে জীবিকার নির্বাহ করছেন আরো ১০ টি পরিবার। উচ্চ শিক্ষিক এই বাদল এক সময় বরিশাল নগরীর পলিটেকনিক কলেজ এলাকায় প্রাইম কোচিং সেন্টার লাইব্রেরির মাধ্যমে সফল হওয়ার চেষ্টা চালিয়ে ছিলেন। ওই ব্যবসায় সফল হতে না পেরে নিরাস বাদল দিলেন দুম্বা ও ছাগলের খামার।

২০১৮ সালে সখের বসে ২টি দুম্বা ও ৪টি ছাগল পালন দিয়ে শুরু হয় তার খামারের কার্যক্রম। আজ তার খামারে ৫৬টি র্টাকি প্রজাতির দুম্বা এবং ব্লাক বেঙ্গল, তোতা পাড়ি, বৃটল, গুজরী ও স্বজাতসহ ৬ প্রজাতির প্রায় দুই শতাধিকের বেশি ছাগল রয়েছে।

নগরীর ধান গবেষনা রোড থেকে ছাগল ক্রয় করতে আসা খামারী মশিউর রহমান ও জিহাদ (বুলেট) জানান, খামারের প্রতিটি দুম্বা ও ছাগল খুবই উন্নত মানের। কারণ খামারী বাদল ছাগল ও দুম্বাগুলোকে কোন প্রকার কৃত্রিম খাবার দেয় না। তাছাড়া তার পরিবারসহ কর্মচারীরা খামারের প্রতি খুবই যত্নশীল। তাই এখানের ছাগল ও দুম্বা কিনে লাভবান হন তারা।

খামারের বিষয়ে জানাতে চাইলে রেজাউল করিম বাদল বলেন, পটুয়াখালী জেলার দশমিনা এলাকার বাসিন্দা তার খালাতো ভাই শহিদুলের উৎসাহে মেহেরপুর জেলা থেকে ২টি দুম্বা ও খুলনা জেলা থেকে ৪টি ছাগল এনে খামার তৈরি করেন। এর কিছুদিন পর বাদল আরো প্রায় ২ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন।

আজ তার খামারে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকার দুম্বা ও ছাগল রয়েছে। বর্তমানে এ খামার থেকে ৩ মাস পর পর আয় হয় প্রায় ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা। তার খামারে শ্রমিক রয়েছে ৬ জন। প্রতিদিন খামারের ৪ হাজার টাকা খরচ হয়। আমার স্বপ্ন রয়েছে আগামী ১০ বছর পর প্রতিটি ঈদ ও কোরবানীতে বরিশাল নগরীর প্রায় ২০ ভাগ বাসিন্দার বাসায় দুম্বা পৌঁছে দেবার। তবে খামারটি পরিচিতি ও প্রসারের জন্য সরকারী-বেসরকারী সংস্থা গুলোকে এগিয়ে আশা প্রয়োজন। তার খামারে জায়গা সংকট মোচনে প্রয়োজন আরো দুই বিঘা জমি।

রেজাউল করিম বাদল আরো জানান, টার্কি জাতীয় এসব দুম্বা ৬ মাস পর পর বাচ্চা দেয় এবং সেই বাচ্চাগুলো ৮-১০ মাসের মধ্যে ৮০-১২০ কেজি ওজনের হয়ে বিক্রির উপযোগী হয়। দুম্বা পালনে বাড়তি তেমন কোনো খরচ হয় না। দুম্বা পালনে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। ভবিষ্যতে খামারটির আকার আরো বড় করে পূর্ণাঙ্গ একটি দুম্বার খামারের স্বপ্ন রয়েছে বাদলের। ছাগল ও দুম্বা পালনে ভিন্নতা না থাকায় আলাদা করে রাখার প্রয়োজন হয় না। আর খাবারও একই সঙ্গে খাওয়ানো হয়। সকাল-দুপুর আর বিকেল এ তিন বেলা ঘাসের পাশাপাশি গম ও ভুট্টার ভুসি খাওয়ানো হয়। দুম্বা ও ছাগলের- খামারে ভ্যাকসিনসহ সকল প্রকার সহযোগিতা করেছেন প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তর।

এব্যাপারে বরিশাল বিভাগীয় প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ডাঃ নুরুল আলম বলেন, দুম্বা মূলত মরু অঞ্চলের প্রাণি। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সার্বক্ষণিক দুম্বা ও ছাগলগুলোর চিকিৎসাসহ খামারটির খোঁজখবর নিচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, দুম্বার তুলনামূলক রোগবালাই কম। বরিশালের পরিবেশ ও আবাহাওয়া দুম্বা পালনে কোনও সমস্য হচ্ছে না তাই এ খাতে নতুন সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। দুম্বা পালন একটি লাভজনক পেশা। দুম্বা, ভেড়া ও ছাগল কাছাকাছি প্রাণি। পাশাপাশি দুম্বার খামার করতে কোন ঝুঁকি নেই।

 




আজকের আবহাওয়া

পুরাতন সংবাদ খুঁজুন

November 2021
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930  

আমাদের ফেসবুক পাতা


এক্সক্লুসিভ আরও

1140 Shares
%d bloggers like this: