ব্রেকিং নিউজ

বরিশালে ১০ হাজার হিন্দুর সমাধি বানানো তাহেরের গল্প

নভেম্বর ২২ ২০২১, ১৭:০৭

অনলাইন ডেস্ক ‍॥ সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায় সম্প্রতি সহিংসতা ও নিপীড়নের ঢেউ সহ্য করেছে। কিন্তু একজন মুসলিম কারিগর মৃত হিন্দুদের জন্য নিজের প্রতিভাকে উৎসর্গ করেছেন। তাহের আলি খান দেশের বৃহত্তম হিন্দু শ্মশান বরিশাল মহাশ্মশানের মাঠের চারপাশে প্রয়াত প্রিয়জনদের জন্য হাজার হাজার সমাধি তৈরি করেছেন।

ধর্মপ্রাণ রাজমিস্ত্রি তাহের আলি দিনে পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়েন এবং ইসলামের যাবতীয় অনুশাসন মেনে চলেন। তবে প্রায়শই কট্টরপন্থীরা তার এই কাজের জন্য তাকে সমালোচনা করে। ৬০ বছর বয়সী তাহের আলি এএফপি-কে বলেন, ‘আমার নবী সৎ কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতে বলেছেন। তিনি আমাদের চুরি করা, অন্যকে আঘাত করা বা যে কোনো অপরাধ করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। আমি এখানে সমাধি নির্মাণের কাজ করি। আমি এমন কিছু দেখি না যা আমার ধর্ম আমাকে নিষেধ করে।

সাম্প্রতিক সহিংসতার খবর খানকে বিচলিত করেছে।

এসব শুনেই তিনি তার হিন্দু বন্ধুদের নিরাপত্তার বিষয়ে তাদের খোঁজখবর নেন। তিনি বলেন, ‘আমি হিন্দুদের আমার ভাই ও বোন মনে করি। তারা আমার কাজের জন্য আমাকে ভালোবাসে। আমি সমাধি নির্মাণে আমার হৃদয় ঢেলে দিই। কারণ প্রত্যেকেই তাদের মৃত আপনজনদের জন্য সুন্দর কিছু তৈরি করতে চায়।

বৃটিশ ট্যাবলয়েড ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়:
তাহের আলি তার বেশির ভাগ সময় শ্মশানেই কাটান। অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার চিতার চারপাশের মাঠ পেরিয়ে অলঙ্কৃত সমাধি মন্দিরে কাজ করেন। ছোট স্মৃতিস্তম্ভগুলো কংক্রিটের স্ল্যাব দিয়ে বানানো, যা পশ্চিমা সমাধির পাথরের মতো। যেগুলোর নিচে মৃতদের ছাই সমাহিত করা হয়েছে।

 

বড়গুলো আড়াই লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে পারে। তাহের আলি বলেন, ‘মৃতদের জন্য সুন্দর সমাধি তৈরি করতে পারলে খুব তৃপ্তি পাই। আমার মনে হয় যে, তাদের ভালো লাগে আমি এমন কিছু একটা করছি। তাদের মৃত আপনজনদের জন্য ভালোভাবে শোক প্রকাশ করতে পারে এমন কিছু।

৩৫ বছর আগে তাহের আলি এই ব্যবসা শিখেছিলেন এবং তার অনুমান সেই সময় থেকে তিনি ১০ হাজারের বেশি সমাধি তৈরি করেছেন। বরিশাল শ্মশানের আশেপাশের বেশিরভাগই তার হাতের কাজ। মন্দির ঘুরে দেখার সময় তিনি একটি সমাধির দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, এটা দেখেন, চমৎকার এটা। অল্পবয়সী ছেলেটির পরিবার তার জন্য সুন্দর কিছু চেয়েছিল, ছেলেটি হঠাৎ মারা গিয়েছিল। আমি আমার সমস্ত ভালবাসা এবং যতœ দিয়ে এটি করেছি।

বরিশালে বসবাসকারী হিন্দু এবং দক্ষিণ নদী বন্দরের আশেপাশের দূর-দূরান্তের কৃষক সম্প্রদায়ের কাছে তাহের আলির কাজের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

গৌরাঙ্গ দাস নামের একজন তার মাকে দাহ করতে মাঠে এসেছিলেন। তিনি পুনরায় তাহের আলিকে দিয়ে কাজ করাতে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘তিনি মুসলিম কিনা সেটা বিবেচ্য নয়, তিনি চমৎকার কাজ করেন। তিনি আমার দাদার সমাধি তৈরি করেছিলেন। কাজটা খুব সুন্দর ছিল।

প্রতি বছর ভূত চতুর্দশী উৎসবের সময়, যখন হিন্দু উপাসকরা তাদের মৃতদের সমাধি মোমবাতি দিয়ে সজ্জিত করে সম্মান জানায়, তখন তাহের আলি প্রচুর আমন্ত্রণ পান। তিনি বরিশাল মহাশ্মশানে নিজের জীবনের অর্ধেকেরও বেশি জীবন কাটিয়ে দিয়েছেন। এর মালিকরাও তাকে পরিবার হিসেবেই বিবেচনা করেন। যদিও তিনি এখানে নামমাত্র একজন ‘ফ্রিল্যান্সার’ হিসেবেই কাজ করেন। শ্মশানের সাধারণ সম্পাদক তমাল মালাকার বলেন, ‘মানুষ তাদের আত্মীয়দের সমাধি নির্মাণের জন্য তার কাছে আসে কারণ তিনি সেরা।

 




আজকের আবহাওয়া

পুরাতন সংবাদ খুঁজুন

November 2021
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930  

আমাদের ফেসবুক পাতা


এক্সক্লুসিভ আরও

1033 Shares
%d bloggers like this: