ব্রেকিং নিউজ

ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

স্বপ্নের পায়রা সেতু খুলছে আজ

অক্টোবর ২৪ ২০২১, ০৯:১২

ডেস্ক প্রতিবেদক: দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হয়ে পটুয়াখালীর পায়রা নদীর ওপর স্বপ্নের পায়রা সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। আজ (২৪ অক্টোবর) রোববার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই সেতুর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।

এই সেতু উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন যাতায়াতের পথ খুলে যাবে।প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব-১ ইসমাত মাহমুদা স্বাক্ষরিত চিঠিতে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কে পায়রা নদীর ওপর পায়রা সেতু উদ্বোধনে সম্মতি দিয়েছেন। আজ (২৪ অক্টোবর) রোববার সকাল ১০টায় গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি তিনি এই সেতু উদ্বোধন করবেন।

এ কারণে এখন পায়রা সেতু এলাকায় সাজ সাজ রব পড়েছে।তবে এ স্বপ্ন আর আশার গুড়ে বালি ফেলেছে সেতুটির অতিরিক্ত টোল। বেশি হারে টোল ধরার আপত্তি জানিয়েছেন এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষসহ যানবাহন মালিকরা।

এ অতিরিক্ত টোলের কারণে বাস-ট্রাকের ভাড়া বৃদ্ধি করার কথা পর্যন্ত বলছে এখানকার মালিক সমিতিগুলো। সব মিলিয়ে এ ইস্যুতেই যেন ¤øান হতে বসেছে পায়রা সেতুর উপকারের দিকগুলো।উদ্বোধনের তারিখ নির্ধারণ হওয়ার প্রায় দেড় মাস আগে সেতুটি পারাপারে যানবাহনের টোল নির্ধারণ করেছে সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়।

এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। আর এ টোল নিয়ে চলছে ক্ষোভ আর বিতর্ক। ফেরি পারাপারে আগে যেখানে একটি যাত্রীবাহী বাসের ভাড়া ছিল ৫০ টাকা সেখানে ৩৪০ টাকা টোল ধরা হয়েছে। ৪০ টাকা ভাড়া দিয়ে ফেরি পার হওয়ার জায়গায় যাত্রীকে দিতে হবে ৯৫ টাকা।

একইভাবে ফোর হুইল গাড়ির ভাড়া ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫০ টাকা, ট্রাকের ভাড়া ২৫০ থেকে বাড়িয়ে ৭৫০ টাকা, মোটরসাইকেলের ভাড়া ৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ টাকা করেছে মন্ত্রণালয়। অন্যসব যানবাহনের ক্ষেত্রেও একই হারে বাড়ানো হয়েছে টাকার পরিমাণ।

বরিশাল-পটুয়াখালী মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাওসার হোসেন শিপন বলেন, ২৫ আসনের একটি মিনিবাস বরিশাল থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরত্বে থাকা পটুয়াখালী যেতে ভাড়া নেওয়া হয় মাথাপিছু ৮০ টাকা।এ পথে আরও দুটি সেতু রয়েছে।

ওই দুই সেতুতে ৫০ টাকা করে টোল দেই আমরা। সঙ্গে রয়েছে কর্মচারী বেতন এবং জ্বালানি ব্যয়। পায়রা সেতুতে ৩৪০ টাকা টোল দিতে হলে প্রতি রাউন্ড ট্রিপে আমাদের গুনতে হবে ৬৮০ টাকা।

এতে করে লোকসানের মুখে পড়বেন বাস মালিকরা। বিষয়টি সম্পর্কে লিখিতভাবে জানিয়েছি আমরা। এরপরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বাসের ভাড়া বৃদ্ধি করা ছাড়া আমাদের আরও কোনো গতি থাকবে না।

এ রুটে নিয়মিত ট্রাকে পণ্য পরিবহণ করা চালক নূর ইসলাম বলেন, সেতুর ক্ষেত্রে টোল বাড়তে পারে। কিন্তু ৩-৪ গুণ ভাড়া বৃদ্ধির কোনো যৌক্তিকতা নেই।

আসা-যাওয়ায় ১২শ থেকে ১৪শ টাকা অতিরিক্ত টোল দিতে হলে ট্রাকের ভাড়া একই হারে বাড়াবে। লোকসান দিয়ে তো আর কেউ গাড়ি চালাবেন না।

একসময় সড়ক পথে ঢাকা থেকে বরিশাল হয়ে সমুদ্রসৈকত কুয়াকাটা যেতে ১০টি নদীতে ফেরি পারাপার হতে হতো। তবে এখনও দুটি নদীতে ফেরি পারাপার হতে হয়। একটি পদ্মা, অন্যটি পায়রা। নদী পারাপারে দীর্ঘ সময় লাগার পাশাপাশি যাত্রীদের ভোগান্তি পোহাতে হয়। পদ্মা সেতুর কাঠামো দাঁড়িয়ে গেছে। পটুয়াখালীর পায়রা সেতুর অবকাঠামোর কাজ শেষ হয়েছে।

সেতুটি উন্মুক্ত হলে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগে আরেক ধাপ এগুবে দক্ষিণাঞ্চল।পায়রা সেতু প্রকল্পের কর্মকর্তারা জানান, ঢাকা-বরিশাল-পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলার লেবুখালী এলাকার পায়রা নদীর ওপর নির্মাণ করা হয়েছে পায়রা সেতু।এ সেতু নির্মাণের নকশা কিছুটা ব্যতিক্রম। ৪ লেনবিশিষ্ট সেতুটি নির্মিত হচ্ছে এক্সট্রাডোজড ক্যাবল স্টেইড প্রযুক্তিতে।

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর ওপর শাহ আমানত সেতুও এই প্রযুক্তিতে নির্মিত। ১ হাজার ৪৭০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১৯ দশমিক ৭৬ মিটার প্রস্থের সেতুটি ক্যাবল দিয়ে ২ পাশে সংযুক্ত থাকবে। নদীর জলতল থেকে সেতুটি ১৮ দশমিক ৩০ মিটার উঁচু হবে। উভয় পাড়ে ৭ কিলোমিটার জুড়ে নির্মাণ করা হয়েছে সংযোগ সড়ক।

এই সেতুতে ১৩০ মিটার গভীর পাইল বসানো হয়েছে। নদীর মাঝখানে মাত্র একটি পিলার ব্যবহার করা হয়েছে। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ঠিক থাকবে।দেশে প্রথমবারের মতো এই সেতুতে ‘ব্রিজ হেলথ মনিটর’ (সেতুর স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ) স্থাপিত হচ্ছে। যার ফলে বজ্রপাত ও ভূমিকম্পসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা অতিরিক্ত মালামাল বোঝাই যানবাহন চলাচলে সেতুর ভাইব্রেশন সিস্টেমে কোনো ক্ষতির সম্ভাবনা থাকলে সেই বিষয়ে সংকেত দেবে।

সেতুর পরিবেশগত ক্ষতি এড়াতেই এই প্রযুক্তি থাকছে।এ ছাড়াও, সেতুর পিলারের পাশে নিরাপত্তা পিলার স্থাপন করা হয়েছে। এতে কোনো কিছুর ধাক্কায় সেতুর ক্ষতি ঠেকানো সম্ভব হবে, বাড়বে সেতুর স্থায়িত্ব। আলাদা সাবস্টেশনের মাধ্যমে সেতুতে বিদ্যুৎ সরবরাহের মাধ্যমে বাতি জ্বলবে।

থাকছে সৌর বিদ্যুতের ব্যবস্থাও।প্রকল্প কর্মকর্তারা জানান, সরকার ২০১২ সালের মে মাসে সেতু নির্মাণ প্রকল্পের অনুমোদন দেয়। বিদেশি অর্থায়নে নির্মিত এই সেতু ২০১৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল এবং সেসময় ব্যয় ধরা হয়েছিল ৪১৩ দশমিক ২৮ কোটি টাকা।

কিন্তু সেতুর প্রাথমিক নকশায় অনেক পরিবর্তনে এনে পরামর্শদাতারা টেন্ডারের নথি প্রস্তুত করেন এবং দরপত্র প্রক্রিয়ার প্রতিটি পর্যায়ে দাতা সংস্থার সম্মতি নিতে হয়েছে। ফলে নির্মাণ কাজ শুরু হতে দেরি হয়ে যায়।এ ছাড়াও, প্রাথমিক পর্যায়ে প্রকল্প ব্যয় একটি ধারণাগত নকশার ভিত্তিতে অনুমান করা হয়েছিল।

কিন্তু পরে বিস্তারিত নকশা অনুসারে প্রকৃত নির্মাণ ব্যয় চূড়ান্ত করা হয়। ফলে সেতুর নির্মাণ ব্যয় বেড়ে যায়। সর্বশেষ এই সেতু নির্মাণে চুক্তি-মূল্য ছিল এক হাজার ১৭০ কোটি টাকা। তবে সেতুটি নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে এক হাজার ১১৮ কোটি টাকা।

সাশ্রয় হচ্ছে ৫২ কোটি টাকা।বরিশাল নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব ডা. মিজানুর রহমান বলেন, তখন সূর্যোদয়ের সময় বরিশাল থেকে রওয়ানা হয়েও কুয়াকাটায় গিয়ে সূর্যাস্ত দেখা কঠিন হয়ে পড়ত।

বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে ছয়টি নদীর মধ্যে পাঁচটিতেই সেতু হয়েছে।বাকি থাকা পায়রা নদীর উপরও দাঁড়িয়েছে গর্বের সেতু।গত সোমবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দৃষ্টিনন্দন এই পায়রা সেতু দেখতে সেতু এলাকায় মানুষের ভিড়।

সন্ধ্যায় ঝলমল আলোয় আলোকিত হয়ে উঠছে সেতুটি। উদ্বোধনের দিন নির্ধারিত হওয়ায় এলাকার মানুষের মধ্যে উৎসবের আমেজ এসেছে।পটুয়াখালী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা খলিলুর রহমান মোহন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রæতির এই পায়রা সেতু আজ দৃশ্যমান। এই সেতু দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ একধাপ এগিয়ে নেবে।

কুয়াকাটা, মৎস্য বন্দর, পায়রা বন্দরের যোগাযোগ ও ব্যবসা-বাণিজ্য স¤প্রসারিত হবে। প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে স্বপ্নের পায়রা সেতু উন্মোচন হচ্ছে। স্বপ্নপূরণ হবে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের।পায়রা সেতু প্রকল্প পরিচালক আবদুল হালিম বলেন, ‘মূল সেতু, সংযোগ সড়কের নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ২৪ অক্টোবর এই সেতুর উদ্বোধন করবেন। এখন শেষ মুহূর্তে সেতু এলাকায় সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চলছে।

উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে যান চলাচলের জন্য খুলে যাবে এই সেতু। পায়রা সেতু উন্মুক্ত হলে বরিশাল হয়ে কুয়াকাটা পর্যন্ত ফেরিবিহীন যান চলাচল স্থাপিত হবে। পরবর্তীতে পদ্মা সেতু নির্মাণ শেষ হলে ঢাকা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হবে।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ১৯ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পায়রা সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। কুয়েত ফান্ড ফর আরব ইকনমিক ডেভেলপমেন্ট ও ওপেক ফান্ড ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টের যৌথ অর্থায়নে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান লংজিয়ান রোড অ্যান্ড ব্রিজ কনস্ট্রাকশন সেতুটি নির্মাণে কাজ করছে।

 




আজকের আবহাওয়া

পুরাতন সংবাদ খুঁজুন

November 2021
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930  

আমাদের ফেসবুক পাতা


এক্সক্লুসিভ আরও

1370 Shares
%d bloggers like this: