ব্রেকিং নিউজ

চাল নিচ্ছে প্রকৃত জেলে, নদীতে ইলিশ ধরছে মৌসুমিরা

অক্টোবর ১৩ ২০২১, ১৭:৩০

ঝালকাঠি সংবাদদাতা: নলছিটি উপজেলার সুগন্ধা নদীতে অভিযান চালিয়ে অবৈধ কারেন্ট জাল ও ইলিশ জব্দ করে মৎস্য বিভাগ  সাগর থেকে নিরাপদ প্রজননের জন্য ঝালকাঠির সুগন্ধা ও বিষখালী নদীর মিঠা পানিতে আসছে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ। সরকার প্রজননের স্বার্থে গত ৪ অক্টোবর থেকে টানা ২২দিন ঝালকাঠির এই দুই নদীর ৪৫ কিলোমিটার জলসীমায় ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ করেছে। এর পরেও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অবাধে মা ইলিশ ধরছে জেলেরা।

একদিকে সরকারের প্রনোদনার চাল নিচ্ছেন প্রকৃত জেলেরা, অন্যদিকে দিনরাত অবিরাম সুযোগ পেলেই নদীতে জাল ফেলছেন মৌসুমি জেলেরা। তাদের জালে ধরা পড়ছে মা ইলিশ। মৎস্য বিভাগ ও জেলেদের মধ্যে চলছে ইঁদুর বিড়াল খেলা। একপ্রাপ্ত অভিযান, অন্যপ্রান্তে ইঞ্জিনচালিত ছোট ছোট নৌকায় মাছ ধরার দৃশ্য প্রতিদিনই চোখে পড়ছে। তবে মৎস্য বিভাগের দাবি, তাদের অভিযান সফল হচ্ছে। নদীতীরবর্তী বাসিন্দারা জানান, সকালে এক দফায়, দুপুরে, সন্ধ্যায় এবং মধ্যরাতে মোট চার দফায় ইলিশ শিকার করছেন জেলেরা। প্রতিটি মাছে পেটভরা ডিম রয়েছে।

বরিশালের কীর্তনখেলা নদীর সীমানা শেষে সুগন্ধা নদীর শুরু। সেখান থেকেই ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার দপদপিয়া, কুমারখালী, গৌরিপাশা, কংশার দীঘি, মল্লিকপুর, ষাইটপাকিয়া ফেরিঘাট, চর বহরমপুর, মাটিভাঙা, সরই ও ভবানীপুর, ঝালকাঠি সদরের দেউরি, দিয়াকুল, পোনাবালিয়া, গাবগান নদীর মোহনা ও কলেজ খেয়াঘাট, এছাড়াও রাজাপুরের বিষখালী নদীর বড়াইয়া, চল্লিশ কাহনিয়া ও নাপতেরহাটসহ শতাধিক পয়েন্টে প্রায় ৫০০ নৌকায় সুযোগ বুঝে মাছ শিকার করছেন জেলেরা। প্রতিটি নৌকায় গড়ে ১০-২০ কেজি ইলিশ নিয়ে তীরে ভিড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দা মাছ কেনার জন্য মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জেলেদের সাথে আগে থেকেই যোগাযোগ করে রাখেন। নদীতীরে নৌকা ভিড়তেই ক্রেতারা জড়ো হয়। কমমূল্যে দ্রুততম সময়ের মধ্যে মা ইলিশ বিক্রি করে সটকে পড়েন মৌসুমি জেলেরা। ৯০০ গ্রাম থেকে এককেজি ওজনের ইলিশ এখন বিক্রি হচ্ছে ৬০০ টাকায়। এর চেয়ে কম ওজনের ইলিশ ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে নদী তীরেই। অনেক মৌসুমি জেলের স্বজনরা মা ইলিশ ফ্রিজে জমা করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। সরকার ২২ দিন ইলিশ ধরা, বিক্রি, মজুদ ও পরিবহণ নিষিদ্ধ করলেও মাছ শিকারে যেমন আইন মানছেন না মৌসুমি জেলেরা, তেমনি মাছ কিনে পরিবহণ করে ক্রেতারাও অমান্য করছেন আইন। মাঝে মধ্যে জেলেদের মাছ ধরার অপরাধে সাজা দিলেও কোন ক্রেতাকে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে না। পরিবহণের দায়ে ক্রেতাদের দিলে অথবা তাদের সচেতন করার জন্য কোন পরিকল্পনা গ্রহণ করলে মা ইলিশ রক্ষাপেত বলে জানিয়েছেন অনেকে।

নলছিটির তালিকাভুক্ত জেলে জুধিস্টি দাস বলেন, আমরা পেশাজীবী জেলে। সারা বছর মাছ শিকার করেই আমাদের জীবিকা নির্বাহ করতে হয়। নিষেধাজ্ঞার সময় আমরা নদীতে জাল ফেলি না, অথচ প্রজনন মৌসুমে আপেশাদার (মৌসুমী জেলে) জেলেরা মাছ ধরছে। ২০ কেজি চালে ২২ দিন কিভাবে চালাবো। সংসারের আনুসাঙ্গিক খরচ কে দিবে? সুগন্ধা নদী তীরবর্তী বাসিন্দা কাঠিপাড়া গ্রামের রফিকুল ইসলাম বলেন, কাঠিপাড়া থেকে দপদপিয়া এলাকা পর্যন্ত ২০০ নৌকা প্রতিদিন ইলিশ ধরছে। প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের অভিযানের সময় তারা দ্রুত পালিয়ে যায়। অভিযানের ট্রলার অথবা স্পিডবোট একপ্রান্তে গেলে অপরপ্রাপন্তে নেমে যায় জেলেরা। এ যেন ইঁদুর বিড়াল খেলা। অভিযান আরো জোড়ালো হওয়া প্রয়োজন। তা নাহলে নদীতে আর ইলিশ পাওয়া যাবে না। ডিম ছাড়ার আগেই মা ইলিশ ধরা পড়ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মৌসুমি জেলে বলেন, সারা বছর অন্য কাজ করলেও নিষিদ্ধ সময় ইলিশ ধরে অনেক টাকা আয় করা যায়। একটি কারেন্ট জাল নদীতে ফেলতে সময় লাগে ১০ মিনিট। একদিকে জাল ফেলে যাই, আবার একদিকে টেনে উঠাই। এতেই ইলিশ ধরা পড়ে। দিনে ও রাতে মিলিয়ে চার-পাঁচ বার জাল ফেলতে পারলেই হয়ে যায়।

জেলা মৎস্য বিভাগ জানায়, ঝালকাঠিতে ৬ হাজার ৮০০ নিবন্ধিত জেলে রয়েছে। প্রত্যেককে ইতোমধ্যেই ২০ কেজি করে চাল দেওয়া শুরু করেছি। চাল নেওয়ার সময় শতর্ক করা হচ্ছে। যারা এই সময় নদীতে জাল ফেলবেন, তাদের নিবন্ধন বাতিলসহ কঠোর `Û দেওয়া হবে। এর পরেও যারা জাল ফেলে ইলিশ ধরছেন তাদের জেল-জরিমানা করা হচ্ছে।

গত ৪ অক্টোবর থেকে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ যৌথভাবে ৭৭টি ভ্রাম্যমাণ আদালত ৬৬টি অভিযান পরিচালনা করেছে। আটক করা হয়েছে ৮ জেলেকে। জাল জব্দ করা হয়েছে দুই লাখ ২১ হাজার মিটার। জব্দ করা হয়েছে ৫০ কেজি ইলিশ। জালগুলো পুড়িয়ে ফেলা হয় এবং ইলিশ মাছ এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রিপন কান্তি ঘোষ বলেন, জেলায় তিন হাজার ৮৫০ জন জেলের জন্য ৭৭ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ এসেছে। এগুলো বিতরণ শুরু করা হয়েছে। এর পরেও যারা নদীতে জাল ফেলে ইলিশ ধরছে, তাদের সাজা দেওয়া হচ্ছে। নিবন্ধিত কোন জেলে মাছ ধরছে না। মৌসুমি জেলেরা ইলিশ ধরছে। যারা চাল নিচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ সময় মাছ ধরার খবর পেলে নিবন্ধন বাতিল করা হবে। অভিযান এখন পর্যন্ত সফল হয়েছে। ২২ দিন আমরা নদীতে থাকবো। অভিযান আরো কঠোর করেছি। দুটি নদীতে প্রতিদিন কম করে হলেও ৮টি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

 




আজকের আবহাওয়া

পুরাতন সংবাদ খুঁজুন

October 2021
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031

আমাদের ফেসবুক পাতা


এক্সক্লুসিভ আরও

1007 Shares
%d bloggers like this: