ব্রেকিং নিউজ

এখনো পুনর্বাসনের চাল না পাওয়ায় চরম হতাশ জেলেরা

অক্টোবর ০৯ ২০২১, ২১:৪৪

এইচ এম জাকির, ভোলা : নদীতে চলছে ২২ দিনের অভিযান। ইলিশের প্রজনন বৃদ্ধি ও মা ইলিশ রক্ষায় ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়াসহ দেশের বিভিন্ন নদ-নদীর অভয়াশ্রম গুলোতে সকল ধরনের জাল ফেলা ও মাছ ধরার উপর জারি করা হয়েছে সম্পুর্ণ নিষেধাজ্ঞা। গেলো ৪ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এ অভিযান চলেবে আগামী ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত।

মেঘনার তেতুলিয়া নদীর ১শ ৯০ কিলোমিটার এলাকা অর্থাৎ ভোলার ভেদুরিয়া থেকে পটুয়াখালীর চররুস্তম পর্যন্ত তেঁতুলিয়া নদীর ১০০ কিলোমিটার ও ভোলার ইলিশা থেকে মনপুরার চরপিয়াল পর্যন্ত মেঘনা নদীর ৯০ কিলোমিটার এলাকায় সকল ধরনের জাল ফেলা মাছ ধরার প্রতি সম্পুর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই সময় সাগরের লোনা পানি থেকে ডিম ছাড়ার জন্য নদীর মিঠা পানির সন্ধানে মা ইলিশ গুলো চলে আসে অভয়াশ্রমে। তাই ইলিশের প্রজনন বৃদ্ধি ও মা ইলিশ রক্ষায় এ সময় গুলোতে নদীতে সকল ধরনের জাল ফেলা ও মাছ ধরা প্রতি সম্পুর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা অমান্য কারীর বিরুদ্ধে মৎস্য আইনে ছয় মাস থেকে সর্বচ্চ দুই বছর পর্যন্ত কারাদন্ডসহ বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি ব্যবস্থা রয়েছে। অভিযান সফল করতে জেলার মৎস্য বিভাগ, পুলিশ, কোস্টগার্ড ও প্রশাসন এক যোগে মাঠে কাজ করবে।

এদিকে টানা ২২ দিনের অভিযানের ৬ দিন পেড়িয়ে গেলেও এখনো জেলে পরিবার গুলো পায়নি কোন ধরনের সাহায্য সহযোগীতা। তাই পেটের দায়ে জীবিকার সন্ধানে কোন কোন জেলে বাধ্য হয়েই আটক হচ্ছে বাহিনীর হাতে।

জেলেরা বলছেন, জাটকা সংরক্ষনে গেলো মার্চ ও এপ্রিল টানা দু-মাস মাছ ধরার উপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় কোন জেলেই নদীতে মাছ ধরতে পারেনি। বেকার জীবনের পুরোটাই কেটেছে তাদের দার দেনা করে। নিশেধাজ্ঞার সময় শেষ হতেই দেখা দিয়েছে নদী গুলোতে ইলিশ শূন্যতা। তাছাড়া গেলো জুলায়ের শেষের দিক থেকে শুরু হওয়া ইলিশের ভরা মৌসুমেও জেলেদের জালে কাঙ্কিত ইলিশ ধরা না পরায় তাদের মাঝে নেমে এসেছে চরম হতাশা। মাত্র কয়েক দিন হলো নদীতে বেড়েছে ইলিশের পরিমান। মাছ পাওয়ার খুশিতে হাসি ফুটেছে জেলেদের চোখে মুখে। দিন কিংবা রাত্রি প্রতিটি মূহুর্তই তারা জাল সাভার নিয়ে নদীতে গিয়ে ঝুড়ি ভর্তি ইলিশ নিয়ে ফিরছে ঘাটে। কেটে যাবে পিছনের সমস্ত দার-দেনা এমন স্বপ্নের মাঝেই আবার শুরু হলো ২২ দিনের অভিযান। তবে অভিযানের এ সময়ে জেলেরা নদীতে যেতে না পরলেও পুনর্বাসনের চালটুকুও সঠিক সময়ে সঠিক পরিমানে পেলে তাদের কোন সমস্যা হতো না। অথচ অভিযানের ছয় দিন পেরিয়ে গেলোও এখনও পায়নি তারা কোন ধরনের পুনর্বাসন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় জেলেদের অসহায় জীবন যাপনের চিত্র। অভিযানের ছয় দিন অতিবাহিত হলেও চাল না পাওয়ায় জেলে পরিবার গুলোর জীবন কাটছে অর্ধাহারে অনাহারে। সদর উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়নের নাসিরমাজি এলাকার বাসিন্দা সুলতান মাঝি বলেন, আমাদের মতো গরীবের উপরই সকল অত্যাচার। সরকার অভিযান দেয় কিন্তু এই সময়ে আমরা কি করবো কি খাবো তার কোন বুঝ ব্যবস্থা করেই দিচ্ছে এক একটি অভিযান। সুলতান মাঝি বলেন, বহু গরীব অসহায় জেলে পরিবার রয়েছে নদীতে একদিন না গেলেও তাদের চুলো জ্বলে না। থাকতে হয় তাদের না খেয়ে। কিন্তু এ সকল জেলে পরিবার গুলোর কোন ধরনের কর্মসংস্থান ব্যবস্থা না করেই প্রতি বছরই এভাবে অভিযান দিয়ে জেলে পরিবার গুলোকে কষ্ট দেয়ার কোন মানেই হয় না।

সাহাবুদ্দিন, হাসেম, মহসিন, নিরব মাঝি সহ আরো অনেকে বলেন, প্রতি বছরই অভিযানে সময় শেষ হলে এরপর আমাদেরকে ঠিকই চাল দেয়। তাও আবার ২০ কেজির জায়গায় ১৫-১৬ কেজি বা এর চেয়েও কম। আবার কোন কোন জেলে চাল পেলেও অধিকাংশ জেলেরাই বঞ্চিত থাকে এ সকল সুবিধা থেকে।

তবে অভিযানের পূর্বেই জেলার প্রতিটি উপজেলাই জেলেদের পুনর্বাসনের চাল পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে বলে জানান জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এস এম আজহারুল ইসলাম। কয়েকদিনের মধ্যেই নিবন্ধনকৃত ১ লাখ ৪৬ হাজার জেলের জন্য ২০ কেজি করে চাল বিতরন করা হবে।

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কোন কোন জেলে মাছ শিকারে নদীতে গেলেও আটক হয়েছে প্রশাসনের হাতে। গত ৬ দিনে জেলার বিভিন্ন উপজেলার মেঘনা ও তেতুলিয়া নদীর বিভিন্ন প্রান্তে অভিযান চালিয়ে ২৫ জেলেকে আটক করা হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে জাল, মাছ ও নৌকা। আটকৃত জেলেদেরকে অর্থদন্ডের পাশাপাশি দেয়া হয়েছে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড।

এদিকে ইলিশের ভড়া মৌসুমেও এ অঞ্চলের নদী গুলোতে আশানোরূপ ইলিশের দেখা না পাওয়ায় জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা রয়েছেন লোকসানে। যে মূহুর্তে নদীতে কিছুটা ইলিশ ধরা পড়তে শুরু করে জেলেদের জালে ঠিক সেই সময় শুরু হয়েছে অভিযান। তার উপর আবার এনজিওর ঋণ ও মহাজনের দেনার চাপে রীতি মতো জেলেরা এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছে। যেখানে নুন আনতে পান্থা ফুরায়, সেখানে এনজিওর ঋণের কিস্তি এ যেন মরার উপর খাড়া ঘা।

তবে নিসেধাজ্ঞার শুরুতেই জেলেদের পুনর্বাসনের চাল প্রতিটি উপজেলাতেই পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। শিগ্রই এ চাল জেলেদের মাঝে বন্ঠন শরু হয়ে যাবে বলে জানান ভোলা জেলা প্রশাসক মোঃ তৌফিক-ই-লাহী চৌধুরী। তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞার এই সময়টিতে যেন জেলেদের কাছ থেকে ঋণের কিস্তি না নেয়া হয় তার জন্য এনজিও গুলোকেও চিঠি দেয়া হয়েছে। এরপরও যদি এই সময় জেলেদের কাছে ঋণের কিস্তি আনতে যায় এমন অভিযোগ পেলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

 




আজকের আবহাওয়া

পুরাতন সংবাদ খুঁজুন

October 2021
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031

আমাদের ফেসবুক পাতা


এক্সক্লুসিভ আরও

1321 Shares
%d bloggers like this: