ব্রেকিং নিউজ

দেড় বছর কারাবন্ধী সাংবাদিক মীর জামাল

সেপ্টেম্বর ২৩ ২০২১, ১৯:৩৩

বরগুনা প্রতিনিধি: ডিজিটাল সিকিউরিটি এ্যাক্টে দায়ের করা মামলায় টানা দেড় বছর ধরে কারাগারে আছেন দ্বীপাঞ্চল সাংবাদিক মীর জামাল। নিম্ন আদালত থেকে শুরু করে দেশের সর্বো”চ আদালতে চেষ্টা করেও জামিন মেলেনি তার। পরিবারের বড় সন্তানকে জামিন করাতে গিয়ে সর্বস্ব হারিয়ে অর্ধাহার-অনাহারে দিন কাটছে জামালের বাবা-মা। দীর্ঘদিন বাবার স্নেহ থেকে বঞ্চিত সাংবাদিক জামালের কন্যা পুষ্টির অভাবে এখন নানান রোগে আক্রান্ত। অসহায় মীর জামালের পাশে দাড়াতে সাংবাদিক নেতাদের হস্তক্ষেপ চান ¯’ প্রবীণ সাংবাদিকরা।
সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কখনো হাউ-মাউ করে, আবার কখনো নিরবে চোখের পানি ফেলে সন্তানকে কাছে পাবার আকুতি করতে থাকে ¯’ দৈনিক দ্বিপাঞ্চল পত্রিকার বার্তা সম্পাদক ও বাংলানিউজ২৪.কমের বরগুনা প্রতিনিধি মীর জামালের মা।

গত বছরের ৬ মে লামিয়া নামে এক নারীর দায়ের করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় সাংবাদিক মীর জামাল ও নিউজ টোয়েন্টিফোর টেলিভিশনের প্রতিনিধি সুমন সিকদারসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। কিছুদিন পরে সুমন সিকদারসহ ৫ জনের জামিন হলেও দেড় বছর ধরে কারাগারেই আটক আছেন জামাল। জামালকে জামিনে বের করতে নিম্ন আদালত ও উ”চ আদালতে একাধীকবার আবেদন করেও কারাগার থেকে মুক্ত করার ব্যর্থ চেষ্টায় সর্বস্ব হারিয়েছে তার পরিবার।

মীর জামালের মা মোসা: রুনু বেগম  বলেন, দেড় বছর ধরে বড় ছেলে মীর জামাল কারাবন্ধী। দিনের পর দিন অপেক্ষা করি ছেলেকে বুকে জড়িয়ে ধরে একটু কান্না করবো। কিš‘ ছেলেকে কাছে পাইনি। করোনার জন্য কারাগারে দেখাও করতে দেয়নি। ছেলে জীবিত অথচ দেড় বছর আমি দেখতে পারিনি। আমি মনে হয় আমার ছেলেকে দেখ মরতে পারবো না।

মীর জামালের বাবা মো. জালাল মীর  বলেন, ছেলের জামিন করাতে গিয়ে নিম্ন আদালত থেকে উ”চ আদালতে সর্বো”চ চেষ্টা করেছি। টাকা শেষ হবার পরে জমি বিক্রি করেও ছেলেকে জামিনের চেষ্টা করেছি। কিš‘ আমরা ব্যর্থ। এখন আমাদের তিন বেলা খাবার জোটেনা। জামালের মা অসু¯’্য, একটা ঔষুধ কিনে দেবার সামর্থ্যও নেই আমার। কিছু দিন আগে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিলো ওর মা। কিš‘ একটা স্যালাইন কিনেও দিতে পারিনি।

সাংবাদিক মীর জামালের ছোটো ভাই কামাল মীর  বলেন, ঢাকায় একটি প্রাইভেট কোম্পানীতে চাকরি করতেন তিনি। ভাইয়ের জামিনের জন্য আদালতের বারান্দায় ঘুরতে ঘুরতে চাকরিটাও হারিয়েছেন।

মীর জামালের স্ত্রী লিমা বেগম তার কন্যা শিশু তাহিয়া নূর জামালকে নিয়ে অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটা”েছ। লিমা বেগম  বলেন, পুষ্টিকর খাবারের অভাবে অনেকটাই মানসিক ভারসাম্যহীন শিশু তাহিয়া নূর। বঞ্চিত হয়েছে বাবার ভালোবাসা থেকে। মেয়েটার পায়ে একটু সমস্যা মনে হ”েছ। কিš‘ ডাক্তার দেখাতেও পারছে না।

বরগুনার প্রবীণ সাংবাদিক ও বরগুনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি হাসান ঝন্টু  বলেন, সাংবাদিক মীর জামাল বরগুনায় সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের প্রচার, হত-দরিদ্র মানুষের মিডিয়া সহায়তা এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অফিস/দপ্তরের অনিয়ম দূর্নিতী প্রচার/প্রকাশে অসংখ্য রিপোর্ট করেছে। জামাল সকল চোর-বাটপারদের চোখের শুল হয়েছিলো। এসব চোরদের সাথে হাত মিলেয়ে কিছু সাংবাদিকদের যোগসাজশে শুরু হয় সাংবাদিকদের অপরাজনীতী। তরুন মেধাকে ধ্বংস করতে জামালকে ফাসানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ঢাকার সাংবাদিক নেতাদের সাংবাদিক মীর জামালের পরিবারের পাশে দাড়াতে অনুরোধ করেন তিনি।
গত বছরের ২৪ এপ্রিল সদরের পানামা রোড এলাকার লামিয়া নামে এক নারী সম্মানহানি ও তাদের বসতঘরে টাকা ও স্বর্নালংকার লুটের অভিযোগ করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সাংবাদিক মীর জামালসহ ৭ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন।

 




আজকের আবহাওয়া

পুরাতন সংবাদ খুঁজুন

October 2021
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031

আমাদের ফেসবুক পাতা


এক্সক্লুসিভ আরও

1457 Shares
%d bloggers like this: