ব্রেকিং নিউজ

দেশের বিচ্ছিন্ন দ্বীপে আলোর ঝলকানি

সেপ্টেম্বর ১৩ ২০২১, ১৯:৩৩

রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: ‘কোনোদিন স্বপ্নেও ভাবি নাই যে আমাগো এই দেশে কারেন (বিদ্যুৎ) আইবে। আগেতো চ্যারাগ (কুপি) জ্বালাইয়া আছিলাম। আর চ্যারাগ জ্বালান লাগবে না। কারেন আইয়া পরছে। বাবা মরার আগে আল্লাহ কারেন দেহাইছে (দেখাইছে)। অনেক ভাল্লাগে ঘরে এ্যাহন কারেন বাতি জ্বলে।’ কথাগুলো বলছিলেন আনোয়ারা বেগম।

৭৫ বছর বয়সী আনোয়ারা বেগমের চোখে মুখে উচ্ছ্বাসিত ভাব। পটুয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা রাঙ্গাবালী ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা তিনি। সাগর-নদী বেষ্টিত জনপদের বাসিন্দা হওয়ায় কখনোই বিদ্যুতের আলোয় জীবন-যাপন করা হয়নি তার। কিন্তু জীবনের শেষার্ধে এসে একটি বিদ্যুতের আলো যেন তাঁর স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিলো।

শুধু আনোয়ারাই নয়, উচ্ছ্বাসিত এখানকার দেড় লক্ষাধিক মানুষ। দীর্ঘ প্রতিক্ষার অবসান ঘটিয়ে পটুয়াখালীর বিদ্যুৎবিহীন জনপদ রাঙ্গাবালীতে সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ায় খুশিতে আত্মহারা উপজেলাবাসী। তাই আনন্দ সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে রবিবার সন্ধ্যা ৭ টায় উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরে ঝাড়বাতি দিয়ে আলোকসজ্জ্বা করা হয়। ফুটানো হয় আতশবাজি। আলোর ঝলকানি দেখতে ভিড় জমায় উপজেলার বাসিন্দারা।

পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ সরবরাহ উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের করা এ আয়োজনের উদ্বোধন করেন পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) আসনের সংসদ সদস্য মো. মহিব্বুর রহমান মহিব। এসময় তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর দ্বীপ উপজেলা রাঙ্গাবালীকে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে এখানকার মানুষের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানাই। এ কৃতিত্ব ১৬ কোটি বাঙালির নেত্রী শেখ হাসিনার। এখানে শতভাগ বিদ্যুতায়ন হলে তিনি (প্রধানমন্ত্রী) আনুষ্ঠানিকভাবে বিদ্যুৎ সেবার উদ্বোধন করবেন। আজ কেবল পরীক্ষামূলক চালু হল।’

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির তথ্যানুযায়ী, প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন একটি উপকেন্দ্র নির্মাণ করে এ উপজেলায় বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার বাবুরহাট থেকে তেতুলিয়া নদী হয়ে মুজিব নগর দিয়ে চরকাগজল-চরবিশ্বাস অতিক্রম করে সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ পৌঁছায় এ দ্বীপ উপজেলায়। এ বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে তেতুলিয়া, বুড়াগৌরাঙ্গ ও আগুনমুখা নদীর তলদেশ দিয়ে প্রায় ৯ কিলোমিটার সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপন করা হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানালেন, এ উপকেন্দ্রের মাধ্যমে সাড়ে ২৯ হাজার গ্রাহককে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনা যাবে। এরই মধ্যে ২ হাজার ৯৫০ জন গ্রাহককে বিদ্যুৎ সংযোগ ও সুবিধা দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বাকিরাও বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আসবে।

বিদ্যুৎ পেয়ে আনন্দে আত্মহারা উপজেলার বাহেরচর বাজারের প্রত্যাশা বিউটি পার্লারের স্বত্ত্বাধীকারী সুষ্মিতা রাণি বলেন, ‘আমরা এতদিন সৌর বিদ্যুতের সাহায্যে কাজ করতাম। এতে অনেক সমস্যা হতো, কেননা একজন কাস্টমারকে ভালো সার্ভিস দিতে হলে অবশ্য ভালো মেশিন ব্যবহার করতে হতো যা সৌরবিদ্যুৎ দিয়ে পরিচালনা করা যায় না। এখন বিদ্যুৎ আসছে ফলে ভালো সার্ভিস দিতে পারবো। পাশাপাশি নতুন নতুন কাজের মাধ্যমে কাস্টমার নতুন সেবা পাবে।’

ওই বাজারের আরেক ব্যবসায়ী শাহিন মুন্সি বলেন, ‘রাঙ্গাবালীতে বিদ্যুৎ একটা স্বপ্ন ছিল। সাগর-নদী পেরিয়ে বিদ্যুৎ আসবে কল্পনা করি নাই। আমাদের দাবি পূরণ করায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আমরা চির কৃতজ্ঞ।’

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (গলাচিপা-রাঙ্গাবালী) প্রকৌশলী মাইনউদ্দীন আহম্মেদ বলেন, ‘আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে বিদ্যুতায়নের কাজ শেষ করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। যদি কাজ শেষ হয় তাহলে এর মধ্যে অথবা পরবর্তী যেকোনো সময় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করতে পারেন।’

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ডা. জহির উদ্দিন আহম্মেদ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাশফাকুর রহমান বলেন, ‘উপজেলাবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল আজ তা সত্যি হলো। বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত হলো রাঙ্গাবালী। এই বিদ্যুতের কারণে এখানকার মানুষ অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হবে।’

২০১২ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি এ উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

 




আজকের আবহাওয়া

পুরাতন সংবাদ খুঁজুন

September 2021
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930  

আমাদের ফেসবুক পাতা


এক্সক্লুসিভ আরও

1584 Shares
%d bloggers like this: