ব্রেকিং নিউজ

ভোলায় ক্ষুরারোগের বিনামূল্যের ভ্যাকসিন পান না খামারিরা

সেপ্টেম্বর ১৩ ২০২১, ১৯:১৩

ভোলা প্রতিনিধি: ভোলায় প্রাণিসম্পদ দফতরের গবাদিপশুর রোগ নির্মূলের জন্য ‘পিপিআর রোগ নির্মূল ও ক্ষুরারোগ নিয়ন্ত্রণ’ নামের একটি সরকারি প্রকল্পের খামারিদের জন্য বিনামূল্যের ভ্যাকসিন দেওয়ার কথা থাকলেও তা পাচ্ছেন না প্রান্তিক খামারিরা। অনেক খামারির পশু ক্ষুরারোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে। ফলে ভেস্তে যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্প।

খামারিদের অভিযোগ, প্রকল্পটির কার্যক্রম অনেকটা কাগজে-কলমের মধ্যে সীমাবদ্ধ। ভ্যাকসিনগুলো নিয়ে চলছে নয় ছয়। প্রাণিসম্পদ অফিসের ভ্যাকসিনেটর ভলান্টিয়ারদের দিয়ে পার্শ্ববর্তী জেলায় বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আর কিছু অসাদু কর্মকর্তার ও কর্মচারীর কারণে এই প্রকল্পের কোনো সুফল পাচ্ছেন না বলে জানান তারা।

এদিকে ক্ষুরারোগের ভ্যাকসিন সব খামারি পেয়েছেন বলে দাবি করেন জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা। দেশের ক্রমবর্ধনশীল জনসংখ্যার আমিষের চাহিদা পূরণের জন্য সরকার খামারিদের গরু-মহিষের ক্ষুরারোগ নিয়ন্ত্রণের জন্য বিনামূল্যে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে। ‘পিপিআর রোগ নির্মূল ও ক্ষুরারোগ নিয়ন্ত্রণ’ নামের একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। এর মাধ্যমে ভোলা জেলার ৬৯ ইউনিয়নে প্রত্যেক খামারির জন্য বিনামূল্যে ভ্যাকসিন দেওয়ার পাশাপাশি প্রকল্পের আওতায় গবাদিপশুর জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ‘হেলথ কার্ড’।

আর কার্ডের মাধ্যমে গবাদিপশুকে নিয়মিত টিকা ও কৃমিনাশক ওষুধসহ ভ্যাকসিন দেওয়ার কথা থাকলেও তা না দিয়ে জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী তা খোলাবাজারে বিক্রি করে দিচ্ছেন। ফলে ভ্যাকসিন না পেয়ে ক্ষতির মুখে পড়েছেন প্রান্তিক খামারিরা।

ভোলা সদর উপজেলা ইলিশা ইউনিয়নের আকতার ডেইরি ফার্মের প্রতিষ্ঠাতা মো. আকতার হোসেন বলেন, গবাদিপশুর খামারিদের কথা চিন্তা করে সরকার বিনামূল্যে ক্ষুরারোগের ভ্যাকসিন দেওয়ার একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। অথচ আমরা এই প্রকল্পের কোনো সুফল পাচ্ছি না। আমাদের বাইরে থেকে চড়া দামে ভ্যাকসিন কিনতে হয়।

তিনি বলেন, যেহেতু সরকার বিনামূল্যে এই ভ্যাকসনি সরবরাহ করছে, সেহেতু সবাইকে এই ভ্যাকসিন সরবরাহ করা উচিত। তাহলে উপকূলের প্রান্তিক চাষিরা গরুর ক্ষুরারোগ থেকে রক্ষা পাবে। তাই সরকারি ভ্যাকসিন সব খামারির মাঝে সুষ্ঠুভাবে বণ্টন করার দাবি জানান তিনি।

একই উপজেলার খামারি শ্যামল বাংলা কৃষি খামারের কর্ণধার মনিরুল ইসলাম জানান, ভোলা গবাদিপশু পালনের জন্য একটি উর্বর ভূমি। কিন্তু এখানে গবাদিপশু পালন করতে গেলে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে খামারিরা নিয়মিত সরকারি ভ্যাকসিন ও ওষুধ পান না। বিশেষ করে এখানে পশু চিকিৎসকরা খামারগুলো ঠিকমতো তদারক করেন না বলে অভিযোগ করেন।

এ ছাড়া ক্ষুরারোগে গোটা পশু পালনব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেয়। সেখানে সরকার ক্ষুরারোগের ভ্যাকসিনের জন্য সরকার নিয়মিত বরাদ্দ দিয়ে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করেছে। অথচ এই ধরনের প্রকল্প কার্যক্রমগুলো জেলা প্রাণী দফতর কাগজে-কলমে দেখালেও বাস্তবে নেই। আমাদের ভ্যাকসিন না দিয়ে সরকারিভাবে এই ভ্যাকসিনগুলো পার্শ্ববর্তী জেলায় বিক্রি করে দেয়।

ভোলার চরসামাইয়া ইউনিয়নের খামারি মো. শাহজাহান হোসেন জানান, ক্ষুরারোগ নির্ণয় করার জন্য এত কিছু আসে, অথচ আমরা কিছুই পাই না। শুনছি প্রতি ইউনিয়নে ভ্যাকসনি দেওয়ার জন্য একজন করে ভলান্টিয়ার আছে, তা-ও জানি না। উল্টো গরু অসুস্থ হলে বাড়িতে এনে সরকারি পশু চিকিৎসক দেখালে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা খরচ নেয়। তা না হলে তারা আসে না। ওষুধও কিনতে হয় আমাদের।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ইন্দ্রজিৎ কুমার মন্ডল জানান, সরকারিভাবে পিপিআর ও ক্ষুরারোগ নির্মূল প্রকল্পের ভ্যাকসিন যারা কালোবাজারিতে বিক্রি করেছে, তাদের শাস্তির আওতায় আনা হবে। ইতোমধ্যে জেলার সাতটি উপজেলার সব খামারিকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

উল্লেখ্য, জেলার সাতটি উপজেলার ৬৯ ইউনিয়নের ৬৯ জন কর্মীর মাধ্যমে ‘পিপিআর রোগ নির্মূল ও ক্ষুরারোগ নিয়ন্ত্রণ’ নামের এই প্রকল্প চলমান আছে। এর মাধ্যমে গবাদিপশুকে অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করা যাবে। এর মাধ্যমে জেলার ৩৪৫২ জন ছোট-বড় খামারি এই প্রকল্পের মাধ্যমে ভ্যাকসিনসহ অন্যান্য টিকা-ওষুধও এর সুবিধা পাওয়ার কথা রয়েছে।

গত ৩০ আগস্ট ভোলা প্রাণিসম্পদ অফিসের সরকারি ভ্যাকসিন নোয়াখালীতে বিক্রির দায়ে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। তাকে নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার আট কপালিয়া বাজার থেকে আটক করা হয়। তার নাম তারিকুর রহমান।

তিনি ভোলা সদর উপজেলার প্রাণিসম্পদ অফিসের বাপ্তা ইউনিয়নের মাঠকর্মী ভ্যাকসিনেটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এ সময় তার কাছে ৫০ এমএলএর ৩১টি এবং ৩০ এমএলএর ২৭টিসহ ৫৮টি ভ্যাকসিনের ভায়াল জব্দ করা হয়।

 




আজকের আবহাওয়া

পুরাতন সংবাদ খুঁজুন

September 2021
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930  

আমাদের ফেসবুক পাতা


এক্সক্লুসিভ আরও

1810 Shares
%d bloggers like this: