ব্রেকিং নিউজ

কঠোর বিধিনিষেধ প্রত্যাহার নাকি শিথিল হচ্ছে?

আগস্ট ০৩ ২০২১, ০১:০৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: করোনা নিয়ন্ত্রণ না আসায় চলমান কঠোর বিধিনিষেধ শেষ হচ্ছে আগামী বৃহস্পতিবার (৫ আগস্ট)। এরপর সেই বিধিনিষেধ আরো বাড়ানো হবে কি না সেই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সরকার। এ ব্যাপারে আগামীকাল (মঙ্গলবার) বেলা ১১টায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের সভাপতিত্বে অনলাইনে একটি সভা অনুষ্ঠিত হবে।

সোমবার জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন জানিয়েছেন, এই বৈঠকে যোগ দিতে অনুরোধ করা হয়েছে স্বাস্থ্য, স্বরাষ্ট্র, কৃষি, শিক্ষা, পররাষ্ট্র, স্থানীয় সরকার, তথ্য ও সম্প্রচার, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, জনপ্রশাসন ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের। এছাড়া সভায় যোগ দিতে চিঠি দেয়া হয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও পুলিশ মহাপরিদর্শকদের।

জানা গেছে, বৈঠকে চলমান বিধিনিষেধ সম্পর্কে পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তবে তাদের নেয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হবে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন সাপেক্ষে।

গুঞ্জণ রয়েছে, করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে চলমান লকডাউন আরো সাতদিন বাড়ানো হতে পারে। তবে এ সময়ে কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিধি-নিষিধে শিথিল করা হতে পারে।

এর আগে চলমান লকডাউন আরো ১০ দিন বাড়ানোর সুপারিশ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। স্বাস্থ্যের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এ বি এম খুরশীদ আলম জানান, চলমান পরিস্থিতিতে আমরা আরো ১০ দিন বিধিনিষেধ বাড়ানোর সুপারিশ করেছি।

সরকারের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, যদি নতুন করে আরো সাত দিন বিধিনিষেধের মেয়াদ বাড়ানো হয় তাহলে সরকারি-বেসরকারি অফিস সীমিত পরিসরে খুলে দেয়া হতে পারে। এমনকি সীমিত পরিসরে গণপরিবহনও চালু করা হতে পারে।

এদিকে ইতোমধ্যে রপ্তানিমুখী শিল্প-কলকারখানা খুলে দেয়া হয়েছে। এ অবস্থায় দোকানপাট, হোটেল-রেস্তোরাঁ খুলে দেয়ার দাবিও বিবেচনায় আসতে পারে।

তবে চলমান ঢিলেঢালা বিধিনিষেধ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন করোনা মোকাবিলায় গঠিত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির প্রধান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ১ জুলাই থেকে ১৪ দিনের লকডাউনে সংক্রমণ কমে আসছিল। আমরা তখন আরো ১০ দিন লকডাউনের সুপারিশ করেছিলাম। কিন্তু তা না করে ঈদে লকডাউন তুলে দেয়া হলো। ফলে সংক্রমণকে যে আটকানো হয়েছিল তা আবার খুলে গেল। দ্বিতীয় দফায় এবার পোশাক কর্মীদের গাদাগাদি করে যেভাবে ঢাকা আনা হলো তাতে আর কিছুই থাকলো না। সংক্রমণ এখন আরো বেড়ে যাবে।

তবে ব্যক্তিগতভাবে লকডাউনের পক্ষে না এই বিশেষজ্ঞ। তিনি বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে আর লকডাউনের পক্ষে না। এভাবে যদি প্রশাসন লকডাউন না মানাতে পারে তাহলে মনে হয় আর লককডাউন করাটা ঠিক হবে না। তা না করে বিধিনিষেধগুলো মানানো জরুরি। এখানে কোন ছাড় দেয়া যাবে না।

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতি উদ্বেগজনক পর্যায়ে চলে যাওয়ায় কয়েক মাস ধরে বিধিনিষেধ আরোপ করে তা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে সরকার। ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে আট দিনের জন্য শিথিল করা হয়েছিল বিধিনিষেধ। এরপর আবার গত ২৩ জুলাই সকাল ৬টা থেকে ১৪ দিনের বিধিনিষেধ দেয়া হয়। আগামী ৫ আগস্ট মধ্যরাতে শেষ হবে সেই লকডাউন।

বিধিনিষেধে সব ধরনের গণপরিবহন, সরকারি-বেসরকারি অফিস বন্ধ। খাদ্যপণ্য উৎপাদন-প্রক্রিয়াকরণ, চামড়া পরিবহন-সংরক্ষণ ও ওষুধ খাত ছাড়া বন্ধ রয়েছে সব ধরনের শিল্পকারখানা। তবে ১ আগস্ট থেকে রফতানিমুখী শিল্পকারখানা খুলেছে। বন্ধ রয়েছে দোকান ও শপিংমল। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষের বাইরে বের হওয়াও নিষেধ।

 




আজকের আবহাওয়া

পুরাতন সংবাদ খুঁজুন

September 2021
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930  

আমাদের ফেসবুক পাতা


এক্সক্লুসিভ আরও

1144 Shares
%d bloggers like this: