ব্রেকিং নিউজ

পচা দুর্গন্ধ পানিতে বিপাকে আমতলীর লক্ষাধিক মানুষ

জুন ১০ ২০২১, ১৪:৩২

বরগুনা প্রতিনিধি:  বরগুনার আমতলীতে পঁচা দুর্গন্ধযুক্ত  পানিতে চরম বিপাকে  পড়েছে উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন ও পৌরসভার একাংশর  প্রায় লক্ষাধিক মানুষ।  পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ছে  এসব এলাকায়।  চাওড়া সুবান্দী, ঘুঘুমারী রামজি খালের মরণ দশায়  পেশা বদল করতে বাধ্য হয়েছেন কয়েক হাজার জেলে। এসব এলাকায় দূষিত পানিতে ছড়াচ্ছে পানিবাহিত নানা রোগ।

বরগুনার আমতলী উপজেলার আমতলী পৌরসভার একাংশ, আমতলী সদর, হলদিয়া এবং চাওরা ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে পায়রা নদীতে গিয়ে মিশেছে এ খালটি।  বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ড-পাউবো সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৩ সালে আমতলীর চাওড়া খালে পানি উন্নয়ন বোর্ড একটি বাঁধ নির্মাণ করে।

তখন থেকেই পানি প্রবাহ কমতে শরু হয় চাওড়া খালে।তখন বাঁধের বিপরীত দিকে সুবন্ধি নামে একটি স্থান পানি নিষ্কাশনের জন্য খোলা রাখা হয়। এই অংশের মাধ্যমে  এ  খালের পানি আগুনমুখা নদীতে ওঠানামা করত। খালের খোলা অংশটিও ২০০৯ সালে প্রভাবশালীরা বাঁধ নির্মাণ করে আটকে দেন  পানি নিষ্কাষনের পথ। পানি প্রবাহ সম্পূর্ন বন্ধ হয়ে যায়। পানি নিষ্কাশনের  পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভিতরের খালগুলো মরে  যাচ্ছে।

ভূক্তভোগিরা  জানান,  আমতলী পৌরসভার ৭ নং ও ৩ নং ওয়ার্ডের মধ্যেখানে আমতলী নতুন বাজার বাধবঘাট, থেকে শুরু করে  কুকুয়ার ও হলদিয়ার মধ্যেখানে সুবান্দী বাঁধ, হলদিয়া হাট থেকে ঘুঘুমারী  তুজিরহাট থেকে রামজির বাজার খাল  কঁচুরিপানায় ভরে যাওয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে   নৌ চলাচল। বদ্ধ পানিতে মশা,মাছি  আর সাপের উপদ্রব।

কচুরী পানা পঁচে খালের পানি সম্পূর্ন নষ্ট হয়ে গেছে। এখালের পানি মানুষতো দুরের কথা পশু পাখিও ব্যবহার করতে পারেনা। এখন আষাঢ় মাস  প্রতিদিন বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টির পানি উপচে খালের তীরবর্তী গ্রাম এলাকায়  পঁচা পানি প্রবেশ করে বিভিন্ন রোগ ব্যাঁধি ছড়িয়ে পড়ছে। এই খালের পঁচা পানি ব্যবহারের ফলে অনেকের শরীরে দগদগে ঘাঁ হয়ে গেছে ।

আমতলীর ঘুঘুমারী এলাকার এস এম নাসির মাহমুদ  বলেন, খালের পানি পইচ্যা গ্যাছে, গন্ধে মোরা বাড়ি থাকতে পারি না, ঘুমাইতে পারি না, চলতে পারি না, খালি গন্ধ আর গন্ধ। হেই আর মধ্যে আবার মশা মাছির  উৎপাত।  হলদিয়ার  কালীগঞ্জ এলাকার মো. দুধা মিয়া  বলেন,  খালের পানি  ব্যবহার করতে  পারি  না। পানি হাতে  লাগলে হাত চুলকায়।

একই অবস্থা  উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন ও পৌরসভার একাংশের  লক্ষাধিক জনসাধারনের ।  বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) বরগুনা সদর ও আমতলীর সাধারন সম্পাদক সাংবাদিক মুশফিক আরিফ মুঠোফোনে বলেন, চাওড়া সুবান্দী ঘুঘুমারী খালের পানি প্রবাহ জর”রী ভিত্তিত্বে নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে  ব্যবস্থা নিতে হবে  নতুবা এ খালের দুপাড়ের লক্ষাধিক মানুষের জীবন জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে। বিষয়টি জরুরী ভাবে সরকারকে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।

আমতলী উপজেলা ৫০ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের  প্রশাসক ডা: মোনায়েম সাদ বলেন, কচুরীপানা পচাঁদুর্গন্দ যুক্ত পানিতে  ডায়রিয়া, চর্মরোগসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে। এই দুগর্ন্ধযুক্ত পঁচা পানি  কোন ক্রমে ব্যবহার করা যাবেনা।  আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সংশ্লিষ্ট ডিপার্টমেন্টকে নিয়ে বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখে জেলা প্রশাসক মহোদয়কে অবগত করা হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড বরগুনার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কায়সার আলম মুঠোফোনে বলেন,চাওড়া-সুবান্দি নদীর পানি নিষ্কাশন ও কচুরীপানা অপসারণ ওয়াকওয়ে নির্মাণের ও আড়পাঙ্গাশিয়া, ঘটখালী ও আমতলী পৌরশহর রক্ষার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড ৭২৬ কোটি টাকা ডিপিপি (ডকুমেন্ট অফ প্রজেক্ট প্রফর্মা) জমা দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে।

এখন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবদের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে আমতলী উপজেলার সুবান্ধীবাদ সংশ্লিষ্ট মানুষসহ উপজেলার তিন লক্ষাধিক মানুষের দুর্ভোগ লাঘব হবে বলে জানান। বরগুনার জেলা প্রশাসক মো. হাবিবুর রহমান  মুঠোফোনে বলেন, চাওড়া, সুবান্দী , ঘুঘুমারী  খালের পানি প্রবাহ নিশ্চিত করন ও কচুরীপানা দুরীকরনের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগকে  নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

 




আজকের আবহাওয়া

পুরাতন সংবাদ খুঁজুন

June 2021
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930  

আমাদের ফেসবুক পাতা


এক্সক্লুসিভ আরও

1990 Shares
%d bloggers like this: