ব্রেকিং নিউজ

মেঘনায় জেগে উঠছে ডুবোচর, ভোগান্তি লঞ্চ-ট্রলার যাত্রীদের

জানুয়ারি ১৪ ২০২২, ১৭:৫২

ভোলা প্রতিনিধি ‍॥ ভোলার পূর্ব মেঘনা নদীর মাঝে জেগে উঠেছে অসংখ্য ডুবোচর। ডুবোচরের কারণে এ নদী দিয়ে চলাচলকারী যাত্রীবাহী লঞ্চ ও ট্রলার চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। এতে করে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে এ রুটে চলাচলকারী যাত্রীদের। জোয়ারের সময় কিছুটা কষ্ট করে চলাচল করলেও সবচেয়ে বেশী সমস্য দেখা দেয় ভাটার সময়। চরগুলোতে একবার লঞ্চ ও ট্রলার আটকা পড়লে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মাঝ নদীতেই কাটাতে হয়।

এ নদী দিয়ে প্রতিদিন ভোলার মনপুরা, চরফ্যাশন, লালমোহন, তজুমদ্দিন ও নোয়াখালীর হাতিয়া থেকে ঢাকাগামী প্রায় ৮-১০টি লঞ্চ চলাচল করে। কিন্তু ডুবোচরের কারনে ঢাকায় আসা-যাওয়ায় প্রায় ৩-৪ ঘণ্টা বেশী সময় লাগে। এতে যাত্রীরাও পড়েন বিপাকে। এ ছাড়াও ভোলার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন মেঘনা নদীর মাঝে অবস্থিত চর মদনপুর ও মাঝের চরে প্রায় ২০ হাজার লোকের বসবাস। এরা সবাই এ মেঘনা নদী পাড়ি দিয়েই প্রতিদিন জরুরি প্রয়োজেন ট্রলারে করে ভোলায় আসা-যাওয়া করতে হয়। মেঘনার মাঝে উত্তর-দক্ষিণে লম্বালম্বিভাবে চর পড়ার কারণে তাদেরও যাতায়াতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। প্রায়ই ডুবোচরে ট্রলার আটকে গিয়ে মাঝ নদীতে নেমে কাঁদাপানি ডিঙিয়ে পুনরায় অন্য ট্রলারে করে পারাপার হতে হয়। গত ৬ মাস ধরেই চলছে তাদের এ দুর্ভোগ।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ভোলার সদর উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়ন থেকে দৌলতখান উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নে যেতে দুইটি নৌপথ রয়েছে। একটি সদরের নাছিরমাঝি এলাকা থেকে দৌলতখানের চেয়ারম্যানবাজার, অপরটি সদরের তুলাতুলি থেকে দৌলতখানের করাতির খাল নৌপথ। প্রতিদিন দুইটি নৌপথে সহস্রাধিক মানুষ যাতায়াত করে। কিন্তু মেঘনা নদীর মাঝে লম্বলম্বিভাবে কয়েকটি ডুবোচর জেগে ওঠায় এ দুই ঘাট থেকে ছেড়ে যাওয়া যাত্রীবাহী ট্রলার অনেক দূর ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে। জোয়ারের সময় অনেক পথ ঘুরে গেলেও ভাটার সময় মাঝ নদীতেই আটকে থাকে ট্রলারগুলো।

ঘাটের ইজারাদার সূত্রে জানা যায়, জেলা প্রশাসকের স্থানীয় সরকার শাখা ও ইউনিয়ন পরিষদ এ দুটি ঘাট বছরে প্রায় ২০ লাখ টাকায় ইজারা দিচ্ছে। কিন্তু ডুবোচর অপসারণের কোনো উদ্যোগ নেই তাদের।

জানতে চাইলে ভোলার জেলা প্রশাসক মো. তৌফিক-ই-লাহী চৌধুরী বলেন, চরের বাসিন্দারা লিখিত আবেদন করলে, আবেদনের প্রেক্ষিতে দপ্তরগুলোকে নিয়ে বসে আলোচনা করে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

এ নৌপথে প্রতিদিন যাতায়াতকারী মদনপুর চরের আলোর পাঠশালা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আক্তার হোসেন বলেন, গেলো বর্ষা মৌসুম থেকে প্রায় ৬ মাস ধরে প্রতিদিন তাদের ভোগান্তীর মধ্য দিয়েই পারাপার হতে হচ্ছে। মদনপুরে তিনটি সরকারি প্রথমিক বিদ্যালয় ও একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারী, ইউনিয়ন পরিষদের লোকজন, স্বাস্থ্যকর্মী, সরকারি-বেসরকারি লোকসহ চরের বসবাসকারীরা নিয়মিত ভিজে ভিজে চরে আসেন। আবার রোদে শুকিয়ে ভিজে ভিজে বাড়িতে ফেরেন। তবে এখন ব্যাগে দুইসেট পোষাক রাখতে হচ্ছে তাদের।

ট্রলারের মাঝি মো. মোতালেব জানান, জোয়ারের সময় ডুবোচর ডুবে থাকে। তখন একটানে ঘাটে পৌঁছানো সম্ভব। ভাটার সময় চর জেগে ওঠে। তখন যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। তবে ট্রলারে যাতায়াতের জন্যে সদ্যপড়া ডুবোচরটি কেটে নালা করে দিলে নৌ-চলাচলে সমস্যা কমতো। নইলে যাত্রীদের ভবিষ্যতে দুর্ভোগ আরো বাড়বে।

মদনপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এ কে এম নাছির উদ্দিন ও ইউপি সদস্য ফারুক দৌলত জানান, মদনপুর চরের প্রায় ২০ হাজার মানুষ, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী গত ছয় মাস ধরে ডুবোচরের কাঁদাপানিতে ভিজে নদী পার হচ্ছে। এতে করে তাদের ভোগান্তীর শিকার হচ্ছেন। ডুবোচর খনন করে নালা করে দিলে ট্রলার চলাচলে সমস্যা থাকবে না।

ভোলায় কর্মরত বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের(বিআইডব্লিউটিএ) খনন শাখার উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. কামাল বলেন, একটি ড্রেজার (খননযন্ত্র) এখন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ঘোষেরহাটের তেতুলিয়া নদীতে খনন করছে। অনুমতি আসলে এখানের কাজ শেষ করে যাওয়ার পথে মেঘনা নদীর ডুবোচর খননের কাজ করা সম্ভব।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের ভোলা নদী বন্দরের উপ পরিচালক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, তিনি খনন বিভাগের মুখ্য প্রকৌশলীর সঙ্গে সমস্যাটি সমাধানের জন্য বলবেন।

 




আজকের আবহাওয়া

পুরাতন সংবাদ খুঁজুন

January 2022
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  

আমাদের ফেসবুক পাতা


এক্সক্লুসিভ আরও

Shares
%d bloggers like this: